দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিলের সময় থেকে কয়েক হাজার অস্থায়ী কর্মী কাজ করছেন সরকারের বিভিন্ন দফতরে। সে সময় থেকেই তাঁদের স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলনও চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরে তৈরি হয়েছে জিটিএ (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। তার পরেও ওই অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি পাকা হয়নি। এরপরেই চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল অস্থায়ী কর্মীদের সংগঠন। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি নিয়ে চার মাসের মধ্যে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ও জিটিএ-কে নির্দেশ দিয়েছেন।
যে সংগঠন মামলা দায়ের করেছিল সেই ‘জনমুক্তি অস্থায়ী কর্মচারি সংগঠন’-এর আইনজীবী সমীর তালুকদার আদালতে জানান, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৫ হাজার ৮০০ অস্থায়ী কর্মী সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন স্থায়ী সরকারি কর্মী যত ক্ষণ কাজ করেন, তাঁদেরও তত ক্ষণ বা তারও বেশি সময় কাজ করতে হয়। অথচ অস্থায়ী কর্মীদের বেতন স্থায়ীদের অর্ধেক। এমন অনেক কর্মী রয়েছেন, আগামী দু’-তিন বছরের মধ্যে যাঁদের অবসরের বয়স হয়ে যাবে। রাজ্য সরকার ওই কর্মীদের চাকরি পাকা করার বিষয়টি নিয়ে কোনও ভাবনা-চিন্তা করছে না। এ দিন জিটিএ-র আইনজীবী আদালতে জানান, ওই কর্মীদের চাকরি হলে তাদের কোনও অসুবিধা নেই। জিটিএ-ও চায় ওই কর্মীদের চাকরি পাকা হোক।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকার ও জিটিএ-কে নির্দেশ দেন, কোন যোগ্যতায় ওই কর্মীরা স্থায়ী হবেন, আইনে কী বলা রয়েছে তা দেখে চার মাসের মধ্যে বৈঠক করে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওই বৈঠকে অস্থায়ী কর্মী সংগঠনের দুই প্রতিনিধিকেও যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
জনমুক্তি অস্থায়ী কর্মচারী সংগঠনের তরফে মাস ছয়েক আগে কলকাতা হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছিল। সংগঠনের সভাপতি মাচেন্দ্র সুব্বা বলেন, ‘অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়ার পরিমাণও অনেক। সেগুলিও নিশ্চয়ই মিটিয়ে দেওয়া হবে।’’ এ দিন আদালতে হাজির ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সঞ্জয় দাস। হাইকোর্টের নির্দেশ শুনে তিনি বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশে আমাদের সুদিন আসতে চলেছে।’’
জিটিএ-এর কর্মীবর্গ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বিনয় তামাঙ্গ বলেন, ‘‘আমরাও দীর্ঘদিন অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার পক্ষে সওয়াল করেছি। সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চেয়েছি। আশা করছি এবার সমাধান সূত্র পাওয়া যাবে।’’ জিটিএ-এর অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‘হাইকোর্টের নির্দেশ মতো পদক্ষেপ হবে। রাজ্য সরকারের তরফে বিষয়টি যাঁরা দেখেন, তাঁরা যথাযথ পদক্ষেপ করবেন।