Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

এ বার আসেনি বিন-গুজ, বিষণ্ণ গজলডোবা

কিশোর সাহা
শিলিগুড়ি ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:০১
পরিযায়ী: অতিথি। নিজস্ব চিত্র

পরিযায়ী: অতিথি। নিজস্ব চিত্র

নানা রঙের হাঁসের দেখা মিলেছে। রাজহাঁস প্রজাতির পরিযায়ীর আনাগোনাও কম নেই। সাম্প্রতিক অতীতে দেখা মেলেনি এমন কিছু পরিযায়ীও এবার রয়েছে উত্তরের নদী-জলাশয়ে। কিন্তু, নেই শুধু ‘বিন-গুজ’। যা কি না গত বছর প্রায় গোটা দেশের পরিযায়ী প্রেমীদের টেনে এনেছিল উত্তরবঙ্গে। গজলডোবায় তিস্তায় ভেসে বেড়ানো একজোড়া ‘বিন গুজ’-এর সৌজন্যে ফেব্রুয়ারি অবধি জমদমাট বাজার ছিল স্থানীয় মাঝিদের। কিন্তু, এবার সেই ‘বিন গুজ-এর দেখা নাই’ বলে অনেকটাই বিষণ্ণ গজলডোবা।

শুধু গজলডোবা নয়, উত্তরবঙ্গের সব জায়গাতেই এ বার পরিযায়ীদের প্রজাতির সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে কমেছে। সম্প্রতি বন দফতর, হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন (ন্যাফ) মিলে চারটি জলাশয়ে পরিযায়ী গণনার কাজ সম্পূর্ণ করেছে। গজলডোবা, রসিকবিল, নারারথলি বিল ও ফুলবাড়ি ক্যানালে গণনা হয়েছে। তাতেই স্পষ্ট হয়েছে, গত বছরের চেয়ে কয়েকটি এলাকায় পরিযায়ীর সংখ্যা বাড়লেও প্রজাতির সংখ্যা কমেছে। বরং, একই প্রজাতির পাখির সংখ্যা বেড়েছে। ব্রাহ্মণী হাঁস বা রুডি শেল ডাকের দেখা মিলেছে প্রায় সর্বত্রই। লে, লাদাখ, মঙ্গোলিয়া থেকে উড়ে আসা ওই পাখিদের ওড়াওড়ির ছবি ক্যামেরাবন্দি করতেও ভিড় কম নেই।

ন্যাফের কো-অর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, ‘‘গত বছরের তুলনায় পরিযায়ীর সংখ্যা বিল, নদীতে বেড়েছে। কিন্তু, বেশ কিছু প্রজাতির পাখি আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত দশ বছরের নিরিখে পরিযায়ীর সংখ্যাও কিন্তু কম। এটা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভেবে পদক্ষেপ করতে হবে।’’

Advertisement

তিনি জানান, রক্ষণাবেক্ষনের দিক থেকে সব থেকে দুরবস্থা দেখা গিয়েছে রসিক বিলের। কোচবিহারে ওই জলাশয়ে একটা সময়ে ৭-৮ হাজার পরিযায়ীর দেখা মিলত। সেখানে পাখির সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। মূলত পিকনিক বেড়ে যাওয়ায় পরিযায়ীরা মুখ ফিরিয়েছে বলে মতো বন অফিসার ও পরিবেশপ্রেমীদের। অবশ্য পাখিগণনায় যুক্ত সদস্যরা জেনেছেন, রসিকবিলে মাছ ধরার প্রবণতাও বেড়েছে। তাতে পরিযায়ীদের খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে।

ফুলবাড়ি, গজলডোবা, নারারথলি বিলে অতীতে পরিযায়ী মেরে মাংস খাওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও তা ইদানীং কমেছে বলে দাবি সমীক্ষকদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা পাখি শিকার বন্ধ করতে জোট বাঁধায় কাজটা সহজ হয়েছে বলে মনে করছে বনকর্মীরাও। তবে বনকর্মীদের কয়েকজন জানান, পরিযায়ীদের আস্তানায় ছবি তোলার হুটোপুটি বন্ধ করার জন্যও কিছু পদক্ষেপ করা দরকার।

ন্যাফের কো-অর্ডিনেটর বলেন, ‘‘গত বছর বিন গুজের ছবি তোলা নিয়ে নানা কাণ্ড হয়েছিল। এতে পাখিরা বিরক্ত হয়। সেটা মাথায় রেখেই পাখিপ্রেমীদের ছবি তোলার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, শঙ্কিত, বিরক্ত হয়ে পরিযায়ীরা আরও দূরে চলে গেলে ছবি তুলতে সেখানে ছুটতে হবে।’’



Tags:
Migratory Birds Gajoldobaগজলডোবা

আরও পড়ুন

Advertisement