শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে অবৈধ বালি উত্তোলন, মজুত ও পাচারের অভিযোগের মধ্যে অভিযানে নামল প্রশাসন। সোমবার রাতে ঘোষপুকুরে একটি ক্রাশারে হানা দেন ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিক, বিডিও এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মীরা। অভিযানে গিয়ে ক্রাশার চত্বরে বিপুল পরিমাণ বালি অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সেখানে থাকা ১৪টি ডাম্পারেও অবৈধভাবে বালি বোঝাই অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের তরফে ঘোষপুকুর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ১৪টি ডাম্পার আটক করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ি মহকুমার বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি তোলা, তা বিভিন্ন ক্রাশারে মজুত করা এবং পরে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করার অভিযোগ উঠছিল।
অভিযোগ, এই অবৈধ ব্যবসার জেরে এক দিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্য দিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্বের ক্ষতিও হচ্ছে। সম্প্রতি এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি জানিয়েছিলেন, অবৈধ বালি ও পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের যোগসাজশ প্রমাণিত হলেও তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
বিধায়ক দুর্গা মুর্মু জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কিছু ক্রাশারে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ ছিল। সেই কারণেই খড়িবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে পরিদর্শন করছেন তিনি। গত সোমবার রাতের অভিযানে, একটি ক্রাশারে অবৈধ ভাবে নদী থেকে তোলা বালি মজুত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে তিনি জানান। বিষয়টি ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্রাশার মালিক প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর-বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)