সনাতন ধর্মে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাস্তুমতে, চুল আঁচড়ানোর পর ঘরের যেখানে-সেখানে চুল ফেলে রাখা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করা রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, ঝরে পড়া বা জট পাকানো চুলের সঙ্গে রাহু এবং শনি দেবের সম্পর্ক রয়েছে।
ঘরের মেঝেতে চুল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে কোষ্ঠীতে রাহুর দোষ বাড়ে। এর ফলে ঘরে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া, ছেঁড়া চুল যেখানে-সেখানে পড়ে থাকার অর্থ নিজের ভাগ্যকে অবহেলা করা। এর ফলে কোষ্ঠীতে শুভ গ্রহের প্রভাব কমে যায় এবং ভাগ্যের সহায়তায় যে কাজ সহজে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলিতেও নানা ধরনের আকস্মিক বাধা ও বিলম্ব দেখা দিতে শুরু করে।
সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ঘর পরিষ্কার থাকে সেখানেই মা লক্ষ্মী বিরাজ করেন। ঘরের যত্রতত্র চুল পড়ে থাকা চরম অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ। এতে দেবী লক্ষ্মী রুষ্ট হন। এর ফলে পরিবারে আর্থিক অনটন দেখা দিতে পারে। উপার্জনের চেয়ে খরচের পরিমাণ আচমকা বেড়ে যায়। ব্যবসায় বা কর্মক্ষেত্রে নানা বাধা-বিপত্তি আসে।
যে হেতু ছেঁড়া চুল রাহুর শক্তিকে উস্কে দেয়, তাই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাড়ির সদস্যদের মনের উপর। এটি মানুষের মনে অনিরাপত্তা, হীনম্মন্যতা এবং তীব্র চাপ তৈরি করে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পায় এবং কারণে-অকারণে বাড়ির লোকজনের মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। বিনা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন:
চুল আঁচড়ানোর পর তা যদি ঘরের যত্রতত্র পড়ে থাকে তবে, তা কোষ্ঠীতে চন্দ্র এবং শুক্র গ্রহের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। চন্দ্র হল মনের কারক গ্রহ। চন্দ্র দুর্বল হলে মানসিক অস্থিরতা এবং অবসাদ বাড়ে। শুক্র হল সৌন্দর্য, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং পারিবারিক ও বৈবাহিক সম্পর্কের কারক গ্রহ। শুক্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মধুরতা কমে যায় এবং সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, মানুষের চুল তাঁর শরীরের শক্তি বহন করে। ঘরের বাইরে বা যেখানে-সেখানে নিজের চুল ফেলে রাখলে তার উপর কুদৃষ্টি পড়ার ঝুঁকি থাকে। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝরে পড়া চুল সহজে নষ্ট হয় না। তাই এই চুলের অপব্যবহার করে কেউ কোনও রকম ক্ষতি করার বা নেতিবাচক শক্তি প্রয়োগ করার সুযোগ পেতে পারেন।
আরও পড়ুন:
জ্যোতিষবিদদের মতে, চুল আঁচড়ানোর পর তা দলা পাকিয়ে সরাসরি ডাস্টবিনে বা এমন জায়গায় ফেলা উচিত যেখানে কারও পা পড়বে না। বিশেষ করে মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার এবং শনিবার সূর্যাস্তের পর চুল কাটা বা আঁচড়ে যেখানে-সেখানে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। কারণ এই সময় প্রকৃতিতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বেশি থাকে। রান্নাঘরকে মা অন্নপূর্ণার স্থান মনে করা হয়। তাই রান্নাঘরে যেন কোনও ভাবেই চুল পড়ে না থাকে, সে দিকে বিশেষ নজর রাখুন। সূর্যাস্তের পর বা সন্ধ্যাবেলায় সময় চুল আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা ভাল।