Advertisement
E-Paper

পঞ্চায়েতে তৃণমূলের মুখ সরলাই

আড়াই বছর আগে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি সরলা মুর্মু। এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে সেই সরলাকেই সামনে রেখে জেলা পরিষদে লড়াই করবে তৃণমূল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৮ ০১:৫৪

আড়াই বছর আগে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি সরলা মুর্মু। এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে সেই সরলাকেই সামনে রেখে জেলা পরিষদে লড়াই করবে তৃণমূল।

শুধু সরলাই নন, দলের টিকিটে নির্বাচিত ও কংগ্রেস, সিপিএম-সহ অন্য দল থেকে আসা জেলা পরিষদের সদস্যদের বেশিরভাগকেই কোনও না কোনও আসনে পুনর্বাসন দিতে চাইছে তারা। সেক্ষেত্রে কোনও আসন সংরক্ষণের আওতায় পড়লে তাঁকে সেই ব্লক বা পাশের ব্লকে অন্য কোনও আসনে দাঁড় করানোরও চেষ্টা চলছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। কিছু সদস্যকে আবার টিকিট দিতেও রাজি নয় শাসক দল। তাতেই দলে দ্বন্দ্ব বাধা, এমনকী অন্তর্ঘাতেরও আশঙ্কা করছে দলের একটা অংশ। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে দলের যে সমস্ত নেতা-কর্মীরা জেলা পরিষদের আসনে দাঁড়ানোর জন্য জমি তৈরির কাজ করে রেখেছিলেন, তাঁরা টিকিট না পেলে ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদহ জেলা পরিষদের ৩৮টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। কংগ্রেস ও বামেরা মিলে ১৬টি করে আসন পায়। বামেদের সমাজবাদী পার্টির দু’জন সদস্য সমর্থন করায় বোর্ড গড়েছিল কংগ্রেস। সভাধিপতি হন সরলা মুর্মু। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে সেই সরলাদেবী-সহ কংগ্রেস, সিপিএম ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মোট ১৭ জন সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেন। সে সময় সমাজবাদী পার্টির ওই দু’জন সদস্যও তৃণমূল বোর্ডকে সমর্থন করে। মোট ২৫ জন সদস্যকে নিয়ে ১২ ডিসেম্বর তৃণমূল বোর্ড গঠন করে। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, সমাজবাদী পার্টির দু’জন যেহেতু দলে যোগ দেননি, তাঁদের বাদ দিয়ে বাকি ২৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগ সদস্যকেই এ বার জেলা পরিষদে দাঁড় করাবে দল। সরলা মুর্মুকেই সামনে রেখে তারা লড়াই করবে বলে জানিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন।

কিন্তু দলের ও দলে যোগদানকারী সদস্যদের বেশ কিছু আসন এ বার সংরক্ষিত। সেক্ষেত্রে তাঁদের ব্লক বা পাশের ব্লকের আসনে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। দলীয় সূত্রে খবর, হবিবপুরের ৫ নম্বর আসনটি থেকে গতবার জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রভাস চৌধুরী। দলীয় বোর্ড গঠনের পর তিনি স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ হন। এ বার সেই আসনটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় তাঁকে ব্লকেরই অসংরক্ষিত ৪ নম্বর আসনে দাঁড় করানো হতে পারে। রতুয়া ২ ব্লকের ১৮ নম্বর আসনে কংগ্রেস থেকে জয়ী হওয়া সামসুল হক তৃণমূলে যোগ দেন। শুরু থেকেই তিনি মত্স্য কর্মাধ্যক্ষ। সেই আসনটি এ বার অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় তাঁকে পাশের ১৯ নম্বর অসংরক্ষিত আসনে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে বলে খবর। আবার গাজোল ব্লকের ৭ নম্বর আসনে জয়ী শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দিলরুবা ইয়াসমিনের আসন তফসিলি উপজাতি প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় ও ব্লকের বাকি দুটি আসনও সংরক্ষিত থাকায় তাঁকে কোনও আসনেই দাঁড় করাতে পারছে না দল।

তবে টিকিট না পাওয়া নেতাদের ক্ষোভের আশঙ্কা মানতে রাজি নন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘দলের ও অন্য দল থেকে দলে আসা বেশিরভাগ সদস্যকেই আমরা প্রার্থী করতে আগ্রহী। সংরক্ষণের জন্য কিছু আসনে সমস্যা হচ্ছে। দলের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় দু-একজনকে টিকিটও দেওয়া হবে না। প্রার্থী নিয়ে দলে কোনও সমস্যা হবে না।’’

Sarala Murmu TMC Panchayat Election সরলা মুর্মু
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy