Advertisement
E-Paper

প্রবল ঠান্ডায় সারারাত ধরে ফুটপাথেই, দেখল না কেউ

বৃহস্পতিবার সকালে যখন ব্যবসায়ীরা ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান তখন তিনি অচৈতন্য। তাঁরা পুরসভায় খবর দিলে ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিংহ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠান।

রাজকুমার মোদক

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:০৮
পথে: অচেতন পার্থ। নিজস্ব চিত্র

পথে: অচেতন পার্থ। নিজস্ব চিত্র

সাতের নীচে ঘোরাফেরা করছিল তাপমাত্রার পারদ। প্রবল ঠান্ডায় যখন প্রায় গোটা শহর ঘরের ভিতর কুঁকড়ে তখন রাতভর ধূপগুড়ি শহরের মেন রোডের একটি দোকানের শেডের নীচে পড়ে রইলেন এক ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার সকালে যখন ব্যবসায়ীরা ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান তখন তিনি অচৈতন্য। তাঁরা পুরসভায় খবর দিলে ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিংহ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠান। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, পুলিশ তো সারারাত টহলদারি করে। তাহলে তাদের নজর এড়াল কী ভাবে?

বুধবার কুয়াশা ও প্রচন্ড ঠান্ডায় রাত ৯টা থেকেই বাজার সুনসান হয়ে যায়। এলাকার ব্যবসায়ী সাধন ভাওয়াল বলেন, “দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়ি যাওয়ার সময় লোকটিকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলাম। সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি একটি দোকানের শেডের নীচে মেঝেতে শুয়ে আছেন তিনি। বার বার ডাকা সত্ত্বেও হালকা গোঙানি ছাড়া আর কোনও সাড়া শব্দ করেননি। আমরাই পুরসভায় খবর দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’’

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রবল ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে এর আগেও মাদকাসক্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে বছর ৪৫ এর ওই ব্যক্তির নাম পার্থ চন্দ। বাড়ি শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও বছর বারোর একটি ছেলে রয়েছে। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান তাঁর স্ত্রী। পেশায় লটারির টিকিট বিক্রেতা পার্থবাবুর সঙ্গে পরিবারের তেমন যোগাযোগ নেই। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু বাসিন্দা বলেন, পার্থ মাদকাসক্ত ছিল। বাড়ির সঙ্গে বনিবনা নেই বলেই জানি।’’

কিন্তু রাতভর প্রবল ঠান্ডায় রাস্তায় পড়ে থেকে এক ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার খবরে শহরজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ধূপগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘‘এর আগেও ফুটপাথে কয়েকজনকে দেখে তাঁদের বাড়ি বা হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাতে প্রচণ্ড কুয়াশায় হয়তো পুলিশের নজর এড়িয়ে গিয়েছে।’’

রাজেশবাবু বলেন, “রাতে কোনওভাবে খবর পেলে আমরা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতাম। সকালে খবর পেয়েই ছুটে গিয়ে হাসপাতালে পাঠাই। ভবিষ্যতে যেন এ রকম না হয়, তা দেখা হবে। বুধবার রাতে প্রচন্ড কুয়াশায় পুলিশ হয়ত তাঁকে দেখতে পায়নি।” তবে কয়েকজন ভবঘুরে রয়েছেন, যাঁদের রাতে থাকার জায়গার ঠিক নেই। তাঁদের কী ব্যবস্থা হবে, তা ভাবা হচ্ছে।

Winter Man Temperature ধূপগুড়ি
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy