×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

যত বিপদ তত লাইক

১৭ এপ্রিল ২০১৭ ০২:২৬
উদাসীন: শিলিগুড়ির মহানন্দা ব্রিজের কাছে নিজস্বীতে মগ্ন। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক

উদাসীন: শিলিগুড়ির মহানন্দা ব্রিজের কাছে নিজস্বীতে মগ্ন। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক

টাইগারের হিলের রেলিং বা সেবকের করোনেশন সেতু। রসিকবিল, আত্রেয়ী, মালদহের গঙ্গাবক্ষ বা শিলিগু়ড়িতে বাঘের খাঁচার সামনে। যে জায়গা যত বিপজ্জনক, নিজস্বীপ্রেমীদের পছন্দের জায়গা হিসেবে সেগুলোই প্রথম সারিতে। কেননা, সেই নিজস্বীতেই লাইক বেশি পড়ে। সেলফি-প্রবণতার সেই বিপজ্জনক কিছু দৃশ্যের সামনে আনন্দবাজার।

সেবকের রেলব্রিজ

Advertisement

ভরা বর্ষায় জলস্রোতের ধাক্কায় সেবকে তিস্তার রেল সেতুর স্তম্ভ নড়ে গিয়েছে। পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এসজেডিও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী। অসর্তক হলে পা হড়কে পাটাতন গলে ভরা তিস্তায় পড়ার আশঙ্কা। সে সময় সেতুর সরু পাটাতনে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে নিজস্বী তুলতে দেখে ধমকে উঠেছিলেন সৌরভ।

ঝুলে থাকা সেতু

কয়েক বছর আগে বিজনবাড়ি সেতু ভেঙে প্রায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়। দুই যুবক ঝুলে থাকা ওই সেতুর প্রান্তে গিয়ে নিজস্বী তোলার চেষ্টা করছে দেখে লাঠি নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব রমেশ থাপা।

মহানন্দার রেলিং

ইংরেজবাজার শহরের নতুন মহানন্দা সেতুর রেলিঙে বসে নিজস্বী অন্যতম আকর্ষণ। কখনও রেলিঙে দাঁড়িয়েও চলে নিজস্বী তোলা। ফ্লাই-ওভারের উপরেও নিজস্বী তুলতে দেখা যায়। এক পাশে রেল লাইন, অপর প্রান্তে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক।

চলন্ত বাইকে সেলফি

মালদহে জাতীয় সড়কে বাইপাস তৈরি হচ্ছে। পুরাতন মালদহের নারায়ণপুরে রাস্তা নির্মাণও হয়ে গিয়েছে। সেই রাস্তায় চলন্ত বাইকে নিজস্বী তুলতে গিয়ে কাত হয়ে পড়ার ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে। এই ঘটনা আটকাতে বিজ্ঞপ্তি দেবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।

ভরা বর্ষায় আত্রেয়ীতে

বালুরঘাটে ভরা বর্ষায় ডিঙি যাওয়া হয় আত্রেয়ীর বুকে। সেখানে তোলা হয় নিজস্বী। মাঝিদের কয়েকজন জানান, সেই করতে গিয়ে জলেও পড়েছে অনেকে। বাঁচিয়েছেন মাঝিরা। তবুও কমেনি এই প্রবণতা।

পাখিরা বিপাকে

ফি বছর গজলডোবায় পরিযায়ী পাখিদের সামনে গিয়ে চলে নিজস্বী তোলা। অন্তত, নৌকার মালিকদের অভিজ্ঞতা তাই। পাখির সামনে গিয়ে নিজস্বীর জন্য বাড়তি টাকাও দিতে রাজি অনেকেই। তাতে পাখির বিপদ যে বাড়ে, সে খেয়াল রাখা হয় না।

ঝুলে ঝুলে টয় ট্রেনে

টয়ট্রেন সুকনা স্টেশন ছাড়লেই জঙ্গলে ঘেরা পাকদণ্ডি পথের ব্যাকড্রপে নিজস্বী তোলার হিড়িক শুরু হয়। ঘটনায় উদ্বিগ্ন রেল কর্মীরা। কামরা থেকে পড়ে গিয়ে বা রেললাইনের পাশে গাছে লেগে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। সুকনার এক প্রবীণ গ্যাংম্যানের দাবি, ‘‘কামরা থেকে ঝুলে ছবি তুলতে দেখলে আমরা নিষেধ করি। উল্টে আমাদেরই ধমক খেতে হয়।’’

(চলবে)

Advertisement