E-Paper

দিনভর ছুটলেন গৌতম-শঙ্কর

পুলিশ শুধু লাইন পাহারা দেবে বলে দাবি তাঁর। বস্তুত, যুযুধান শিবিরের দুই প্রার্থী এ দিন সকাল থেকেই তৎপর ছিলেন নিজেদেরভোট তদারকিতে।

রাহুল মজুমদার

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৬
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।

শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথে ঢুকতে বাধা দিলে কখনও তা নিয়ে সরব হন, কখনও দলের কর্মীদের নিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডে চরকি পাক খেলেন। ভোটের দিন তৃণমূল প্রার্থী তথা মেয়র গৌতম দেবের সারাদিন কাটল এ ভাবেই। বৃহস্পতিবার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জগদীশ বিদ্যাপীঠের মেয়রকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতে না দিলে সেখান থেকেই ফোনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অভিযোগ করেন। প্রতিপক্ষ বিজেপির প্রার্থী শঙ্কর ঘোষকেও এ দিন দেখা গেল একাধিক ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে রাজ্য পুলিশের কর্মীদের বের করে দিতে। পুলিশ শুধু লাইন পাহারা দেবে বলে দাবি তাঁর। বস্তুত, যুযুধান শিবিরের দুই প্রার্থী এ দিন সকাল থেকেই তৎপর ছিলেন নিজেদেরভোট তদারকিতে।

শিলিগুড়ির ৪, ৫, ২৪ এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডেই কার্যত দুই বিরোধী প্রার্থীকে দেখা গিয়েছে। গৌতম দেবের অভিযোগ, ‘‘বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় আমাকে আটকেছে। অভিযোগ জানিয়েও লাভ হচ্ছে না।’’ চক্রান্ত করে ভোটে জিততে চাইছে বলেও তাঁর অভিযোগ। শঙ্করের দাবি, ‘‘আমাকেও তো একাধিক জায়গায় বাহিনী আটকেছে। মেয়র লোকজন নিয়ে ঢুকতে চাইলে তো আটকাবেই।’’

বৃহস্পতিবার সকালে শুরুতে মন্দিরে পুজো দেন মেয়র। শিলিগুড়ি গার্লস হাই স্কুলে নিজের ভোট দিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিভিন্ন বুথে ভোট প্রক্রিয়া দেখতে। শহরের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ হাজারের বেশি ভোট রয়েছে। সেখানে প্রথমে যান তিনি। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা চলে যান ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে। বুথে-বুথে ঘোরেন। রাজীব নগরের একটি বুথে রাজ্য পুলিশের এক হোমগার্ড ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ছিলেন। তাঁকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন শঙ্কর। সেখান থেকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে নিজের ভোটদেন তিনি।

সিপিএমের অভিযোগ, এ দিন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে বিজেপির লোকজনকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে। অথচ অন্য দলের লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে বাম ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে ঝামেলাও হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাজেন্দ্রপ্রসাদ হাই স্কুলে ভোট দিতে গেলে এক ভোটারকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। সেখানে মহিলাদেরও মারা হয়েছে বলে দাবি পুর প্রতিনিধি আলম খানের।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি শ-মিলের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে মেয়রকে বাধা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিকেলে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জগদীশ হাই স্কুলে একই ঘটনা ঘটে। তা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অভিযোগ জানালে পরে তাঁকে বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Siliguri Goutam Deb

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy