পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় অভিযোগে অভিযুক্ত শাসকদলের উত্তর দিনাজপুরের সম্পাদক মহম্মদ ফাইজুল ও করণদিঘি যুব তৃণমূল সভাপতি কাউসার আলমকে প্রকাশ্যে বিধায়কের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। আর তা নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
বৃত্তির টাকা আত্মসাৎ কাণ্ডে দু’টি স্কুলের কর্মীকে পুলিশ গত ২৭ জুলাই গ্রেফতার করে। তার প্রতিবাদে অবরোধ বিক্ষোভে নামে স্থানীয় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একাংশ। হামলার ঘটনায় পুলিশ লাহুতাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে। হামলার ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সম্পাদক মহম্মদ ফাইজুল ও ব্লক যুব সভাপতি মহম্মদ কাউসারের নামে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও করে পুলিশ। পুলিশের খাতায় দুই নেতাই অবশ্য ‘ফেরার।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার করণদিঘি ১ গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সভায় করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পালের সঙ্গে ফেরার ওই দুই নেতাকে দেখা য়ায়। তা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসন। উত্তর দিনাজপুর জেলার সহ সভাপতি তথা ডালখোলার পুর প্রশাসক সুভাষ গোস্বামী বলেন,‘‘বিষয়টি নিয়ে দলের ভাবা উচিত। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’’
সিপিএম জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, ‘‘পুলিশ যাঁদেরকে ফেরার বলছে, সেই অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই বিধায়কের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’’ অনাস্থা সভায় পুলিশও ছিল। কিন্তু তারপরেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
ফাইজুলের দাবি, ‘‘আমার নামে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে। দলের কর্মসূচি ছিল, সেখানেই গিয়েছিলাম।’’ কাউসারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে গৌতম বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত তৃণমূল দখল করায় খুশিতে অনেকেই এসেছিলেন। এতে বিতর্কের কিছু নেই।’’ দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।’’ রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার এক কর্তা বলেন, ‘‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’