মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে শ্রম দফতরে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত চা শ্রমিক সংগঠন বাতিল হয়েছে দাবি করে বিতর্কে জড়ালেন নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা। গত ২৮ মার্চ বিধায়ক ‘চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়ন’ নামের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শ্রম দফতরে চিঠি পাঠিয়ে বিধায়ক দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে মজদুর ইউনিয়ন তৈরি করায় দলের অন্য চা শ্রমিক সংগঠন বাতিল হয়েছে। এখন থেকে তরাই, ডুয়ার্স এবং দার্জিলিঙে এই সংগঠনটিই কাজ করবে।
এ কথা শোনার পরে তৃণমূলের একাধিক চা শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তরাই, ডুয়ার্স এবং পাহাড় মিলিয়ে ৩০০ চা বাগানে তৃণমূলের টি প্লান্টেশন ওয়াকার্স ইউনিয়ন, ডুয়ার্স প্লান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, তরাই ডুয়ার্স প্লান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, দার্জিলিং জিলা টি এমপ্লিয়জ এবং ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন রয়েছে। আইএনটিটিইউসি-র নামেও সংগঠন রয়েছে।
একাধিক রাজ্যস্তরের নেতা ইউনিয়নগুলির দেখভাল করেন। আইএনটিটিইউসি-র দার্জিলিং জেলার সভাপতি অরূপরতন ঘোষ বা জলপাইগুড়ির সভাপতি মিঠু মোহান্ত জানান, একই ছাতার তলায় সবাইকে আনার প্রক্রিয়া চললেও কোনও সংগঠন এখনও বাতিল হয়নি। ফলে শুক্রা মুন্ডার চিঠি নিয়ে তৃণমূল দফতরে অভিযোগও পৌঁছেছে।
এই বিষয়ে নাগরাকাটার বিধায়ক বলেন, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শের কথা বলেছি। প্যাডে তাঁর ছবি দিইনি। এটা জানিয়েছি, নতুন সংগঠনটি চা বলয়ে একমাত্র সংগঠন হবে। আর বাগানে থাকবে বিভিন্ন ইউনিট।’’
বছরখানেক আগে সমস্ত চা শ্রমিক সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনার কথা ঘোষণা করে তৃণমূল। যদিও তৃণমূলেরই অন্তত ৫টি সংগঠন তরাই, ডুয়ার্স এবং পাহাড়ে সক্রিয়। শাসক দলের নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সরকারি দফতরে তাঁর নাম করে চিঠি দিতে নিষেধ করেছেন।
তবু কেন চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেই তদন্তের দাবি উঠেছে।
শ্রম দফতরের এক অফিসারও জানিয়েছেন, কোনও সংগঠনকে রাতারাতি বাতিল করা যায় না। সংশ্লিষ্ট দলের শ্রমিক সংগঠনের তরফে অনুমোদন বাতিল করা হলেও ইউনিয়নটি থেকে যায়। আবার সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ পদাধিকারী নিজেরা চিঠি দিয়ে সংগঠনটি কার্যকর নেই বলেও জানাতে পারেন। ওই সংগঠনের আহ্বায়ক রাজেন মুখিয়া বলেন, ‘‘সবাইকে নিয়েই চলতে হবে। রাতারাতি এ ভাবে একাধিক সংগঠন তুলে দেওয়া যায় না।’’