পাহাড় নেই, নেই বরফে ঢাকা পরিবেশও। সমাজ মাধ্যমের সৌজন্যে মালদহের গৌড়ের ছোট সাগরদিঘি যেনও এক টুকরো ‘মিনি পহেলগাম’। ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে ঘেরা ছোট সাগরদিঘি গ্রামে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। জেলা ও ভিন্ জেলার পর্যটকের ভিড়ে ভোটের মরসুমেও প্রাণোচ্ছ্বল গৌড়।
ইংরেজবাজার শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গৌড়। গৌড়ে প্রবেশের আগেই সুস্থানি মোড় থেকে কিলোমিটার খানেক এগিয়ে গেলেই ছোট সাগরদিঘি গ্রাম। গ্রামের এক কোণে মাটির উঁচু ঢিবিতে ভর্তি বট, শিমুলের মতো গাছ। ঢিবি জুড়ে ছড়িয়ে গৌড়ীয়ও ইটের একাধিক স্তম্ভ। পুরাতত্ত্ব বিভাগের সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে— ‘চাঁদ সওদাগরের ভিটে’। স্থানীয়দের দাবি, ছোট সাগরদিঘির ঐতিহাসিক স্থানটিতে মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগরের ভিটে ছিল।
ইতিহাস-গবেষকদের একাংশের দাবি, সুলতান হোসেন শাহের আমলে বেলওয়ারি মাদ্রাসা ছিল স্থানটিতে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া শিলালিপি থেকে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধ এবং রাজ আমলেও নির্দশনও রয়েছে। তবে ইতিহাসের টানে নয়, এখন ছোট সাগরদিঘি প্রকৃতির টানে দিন-কে-দিন ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। সমাজ মাধ্যমে যা পরিচিত ‘মিনি পহেলগাম’ নামে। ভিডিয়ো, রিল বানাতে ছুটে আসছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটারেরাও।
ভোটের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এখন কার্যত ছুটির আমেজ। এ ছাড়া পাঁচ দিন ধরে কখনও ঝিরঝিরে, কখনও মাঝারি বৃষ্টিতে বৈশাখেও শীতের আমেজ জেলায়। পুরাতন মালদহের বাসিন্দা রমা পাল বলেন, “গৌড়ে অনেক বার এসেছি। সমাজ মাধ্যমে মিনি পহেলগাঁমের ভিডিয়ো দেখে ফের হাজির হই। পাহাড়, বরফ না থাকলেও সত্যিই পহেলগামের মতো অনুভব হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দা নিবারণ ঘোষ বলেন, “গৌড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়লে ছোট ছোট দোকানে কেনা বেচা বাড়বে। ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)