Advertisement
০২ মার্চ ২০২৪

শিশুপাচারে লেনদেন পাঁচ কোটি!

দত্তকের নামে  আগেই উঠেছিল শিশু পাচারের অভিযোগ। এখন সেই মামলায় পাঁচ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে  বলেও উঠল অভিযোগ। জলপাইগুড়ির হোম থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথি ঘেঁটে এমনটাই দাবি সিআইডির তদন্তকারী অফিসাররা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
জলপাইগুড়ি শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮ ০২:২৯
Share: Save:

দত্তকের নামে আগেই উঠেছিল শিশু পাচারের অভিযোগ। এখন সেই মামলায় পাঁচ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও উঠল অভিযোগ। জলপাইগুড়ির হোম থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথি ঘেঁটে এমনটাই দাবি সিআইডির তদন্তকারী অফিসাররা।

তাঁদের আরও দাবি, উপহার কিনতে খরচ হওয়া টাকার অঙ্কও খুব একটা কম নয়। দামি এলইডি টিভি, কাঠের আসবাব এমনকী ছোট গাড়িও উপহার দেওয়া হয়েছে। উপহার পৌঁছেছে কয়েকজন প্রাক্তন এবং বর্তমান আমলার কাছে। সেসব উপহার কেনার রসিদ এবং তা ঠিক জায়গামতো পৌঁছনোর জন্য ব্যবহৃত চালানের প্রতিলিপিও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তের স্বার্থে কয়েকজন বর্তমান আমলার সঙ্গে কথা বলতে চায় সিআইডির অফিসাররা। সূত্রের খবর, শিশু বিক্রি কাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে এমন কিছু নথি মিলেছে যা দিয়ে দুর্নীতি দমনের অভিযোগে পৃথক মামলা রুজু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সবটাই নির্ভর করছে নবান্নের নির্দেশের ওপর।

তদন্তকারীদের দাবি, এক প্রাক্তন আমলাকে বছরে অন্তত ৮ বার বিমানের টিকিট কেটে দেওয়া হয়েছে। কাঠের দামি আসবাব উপহার পেয়েছেন এক আমলা। সেসব পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল সরকারি বাংলোতেই। বেশ কয়েকটি এলইডি টিভি এবং একটি ছোট গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে।

সিআইডি-র এক পদস্থ অফিসার বলেন, “শিশু বিক্রির মূল মামলার চার্জশিট হয়েছে। মূল অভিযোগের প্রমাণ সহ সবই আদালতে জানানো হয়েছে। তবে তদন্তে এমন অনেক বিষয় উঠে এসেছে যা দিয়ে পৃথক মামলা হতে পারে। তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’’ কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং তাতে অনেক সরকারি আধিকারিকের নামও উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন ওই সরকারি আধিকারিক।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জলপাইগুড়িতে চন্দনা চক্রবর্তীর হোমে অভিযান চালায় সিআইডি। সিআইডি দাবি করে, দত্তক দেওয়ার নাম করে শিশুদের বিক্রি করা হয়েছে। মূল অভিযোগে সরাসরি জড়িত রয়েছেন এমন দাবি করে ৭ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এখনও পর্যন্ত সিআইডি জেনেছে, মোট ১৭০টি শিশুকে দত্তক দেওয়া হয়েছে হোম থেকে। যার মধ্যে ১৬৫টি শিশুর ক্ষেত্রে মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে বলে দাবি। প্রতিটি দত্তকে ন্যূনতম ২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকার লেনদেনের হিসেবও মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

হোম থেকে দত্তক দেওয়া শিশুদের দত্তকের নথি, আইন বিভাগের নথি সবই জাল হয়েছে বলে উঠে এসেছে তদন্তে। এর সঙ্গে আমলাদের দামি উপহার দেওয়ার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তারই খোঁজে তদন্তের ভাবনা রয়েছে তদন্তকারীদের।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE