Advertisement
E-Paper

আগুন বাজারে আড়ম্বর সরিয়ে নিয়ম রক্ষা গৃহস্থের

পাঁচালি কিনলে আলপনার স্টিকার ফ্রি। দাম দশ টাকা। জলপাইগুড়ি শহরের লক্ষ্মী পুজোর বাজার জুড়ে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের হাঁকডাক। জমজমাট সস্তার ব্যবসা। স্বস্তির হাসি গৃহস্থের মুখে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ০২:০২
শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে লক্ষ্মী পুজোর কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। —নিজস্ব চিত্র।

শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে লক্ষ্মী পুজোর কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। —নিজস্ব চিত্র।

পাঁচালি কিনলে আলপনার স্টিকার ফ্রি। দাম দশ টাকা। জলপাইগুড়ি শহরের লক্ষ্মী পুজোর বাজার জুড়ে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের হাঁকডাক। জমজমাট সস্তার ব্যবসা। স্বস্তির হাসি গৃহস্থের মুখে। যদিও অন্য কিছুর দরদাম করতে মন খারাপ হয়েছে। রাত পোহালে ঐশ্বর্যয়ের দেবী আরাধনা। আকাশ ছোঁয়া দামে হাত পুড়িয়ে আড়ম্বরের কথা ভুলে নিয়ম রক্ষার কথা ভাবতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

পুজোর বাজারে এবার মহার্ঘ ছিল পদ্ম। ছোট কলির দাম চড়েছে ২০ টাকায়। সামান্য বড় হলে সেটা ৩০ টাকার নিচে মেলেনি। গাঁদা ফুলের একটি মালা ২০ টাকার নিচে শহরের দিনবাজার, স্টেশনবাজার, বৌবাজারের কোথাও পাওয়া যায়নি। কেন পদ্ম ফুলের দাম আকাশ ছোঁয়া? ফুল বিক্রেতা রতন দাস বলেন, “এবার বীরভূম থেকে ফুল আনাতে হয়েছে। যে ফুল এসেছে সেটাও পর্যাপ্ত নয়। ওই কারণে দাম বেশি।” এদিন সকাল থেকে প্রতিটি বাজারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দিনবাজারের করলা সেতু জুড়ে ফলফুলের দোকান বসে যায়। একই অবস্থা ছিল বাজারের বিভিন্ন রাস্তার। একে চড়া দাম। গোটা বাজার ঘুরে সস্তায় কিছু কেনাকাটার তোরজোড়। তার উপরে তিব্র যানজটে জেরবার হতে হয় গৃহস্থদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এক সময় ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তার ফুটপাত থেকে দোকান তুলে দিতে হয়। ট্রাফিক পুলিশের ওসি সৈকত ভদ্র জানান, পুজোর বাজারে দিনবাজার এলাকায় বেশি ভিড় থাকে। তবু বিরক্ত হয়ে খদ্দেররা অভিযোগ তুলেছেন। তাই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

এদিন স্টেশন বাজারে নারকেল জোরার দাম উঠেছে ৬০ টাকা। দিনবাজারে সেটা মিলেছে ৬৫ টাকায়। আমের পল্লব মিলেছে দু’টাকায়। একই দামে কিনতে হয়েছে দশটি দূর্বা। চারটি পাকা ছোট মালভোগ কলার দাম ছিল ১০ টাকা। অনেক দরদাম করেও একটি পছন্দসই আখ ২০ টাকার নিচে শহরের কোন বাজারে মেলেনি। বাতাবি লেবু বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা গোটা। মহার্ঘ ছিল পানিফল। একশো গ্রাম বিক্রি হয়েছে ১০ টাকায়। আপেল ও পেয়ারা ৮০ টাকা, মুসুম্বি ৬০ টাকা কেজি দামের নিচে মেলেনি। পাকা আমের দাম ছিল চারশো টাকা কেজি। বেশি দরদাম করতে ফল বিক্রেতাদের মুখে ক্রেতাদের একই কথা শুনতে হয়েছে, “ছেড়ে দিন কিনতে হবে না।” বাজারের ভিড়ে ঘামে ভিজে সমাজপাড়ার বধূ শিপ্রা সেন বলেন, “সাতশো টাকা খরচের পরেও তালিকার সবকিছু কেনা সম্ভব হল না। এখনও সব্জি বাজার বাকি। সবই কাটছাঁট করে নিয়ম রাখতে হচ্ছে।”

Advertisement

কিন্তু নিয়ম রক্ষার কথা ভাবলেও সেটা প্রত্যেকে পারছেন কোথায়! যেমন, বাবুপাড়ার বাসিন্দা সাগরিকা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “নিয়ম রক্ষা করতে হলেও নেই নেই করে অনেক কিছুই প্রয়োজন। তাই দাম শুনে পালিয়ে যাব উপায় কোথায়! কষ্ট করে কিনতে হচ্ছে।” ভরা বাজারে দামের উত্তাপের মধ্যে যেন সামান্য স্বস্তি মিলেছে পাঁচালি, আমের পল্লব, দূর্বা বাজারে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন রোডের পাঁচালি বিক্রেতা নিধু দত্ত বলেন, “আলপনার স্টিকার ফ্রি পেয়ে খদ্দেররা খুব খুশি। রবিবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে তিনশো পাঁচালি বিক্রি হয়েছে। সোমবার সকালেও ভাল বাজার মিলবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy