আরেকটা মিলখা সিংহ নিজের জীবদ্দশায় দেখে যেতে চান তিনি! রোম অলিম্পিকে ৪০০ মিটার দৌড়ে যে সোনার পদক তিনি জয় করতে পারেননি, ১২০ কোটির এই দেশ থেকে কেউ সেই পদক জিতে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করলেন সেই মিলখা সিংহ।
সোমবার শিলিগুড়ি কার্নিভালের উদ্বোধন করতে শহরে এসে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ সেলুলয়েডে তাঁর লড়াইয়ের যে ইতিহাস ফুটে উঠেছে এ দিন নিজেই অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে তার একটা খণ্ডচিত্র তুলে ধরেন। কিন্তু তার পর ৬০ বছরে আর একটা মিলখা সিংহ এখনও তৈরি না হওয়ায় তিনি আক্ষেপ করেন। তার সেটা হয়ে উঠতে যে প্রচণ্ড পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে সেটাই বারবার বোঝাতে চেষ্টা করছিলেন।
এ দিন তিনি বলেন, “এটা দুঃখজনক যে আমার মতো আরেকটা মিলখা সিংহ এখনও হল না। অলিম্পিক থেকে আমি নিজে যে পদক জিততে পারিনি, আমার মৃত্যুর আগে কেউ সেই পদক জিতে দেখাবে এটাই প্রত্যাশা। তার জন্য অলিম্পিকের মঞ্চে দেশের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠবে। আমার জন্য যা বাজাতে পারিনি। সেটাই গর্বের ব্যাপার।’’ রোম ওই অলিম্পিকে ২০০ মিটারের পরিবর্তে ৪০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বপ্ন সফল না-হওয়ায় সারা রাত কেঁদে ছিলেন।
অতীতে তাদের সময় পরিকাঠামোর ঘাটতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ধ্যানচাঁদ যখন হকি খেলতেন, তাঁকে খালি পায়ে খেলতে হত। দেশের জন্য তিনি পদক এনেছেন। সেই তুলনায় এখন পরিকাঠামোর অভাব নেই। যেটা দরকার তা হল কঠিন পরিশ্রম করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছাশক্তি। তা হলেই ডিরো থেকে হিরো, জমি থেকে আকাশে পৌঁছে যাওয়া যাবে।”
তিনি জানান, দিনে ৬ ঘণ্টা দৌড়ের অনুশীলন করতেন। এখন এই অনুশীলন করার মানসিকতা অনেকের নেই বলে তিনি জানান। কিন্তু সাফল্য পেতে সেটাই করতে হবে। নিজের ছেলেকে গলফ খেলায় সাফল্য পেতে তিনি ঠিক এই পরামর্শটাই দিয়েছিলেন বলে জানান ৮৬ বছরের মিলখা সিংহ। সেনাবাহিনীতে চাকরি পাওয়া, সেখানে বিভিন্ন ব্যারাকের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া থেকে আজকের মিলখা সিংহ হয়ে ওঠা। অনুষ্ঠান মঞ্চে তাঁকে নিয়ে তৈরি সিনেমার কয়েক মিনিটের একটা অংশ দেখানো হয়। খেলোয়াড়দের ডোপিং করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। বলেন, “খেলোয়াড়দের অনেকে ক্ষমতা বাড়াতে ডোপিং করেন। কিন্তু ধরা পড়লে দেশের বদনাম। সেটা মনে রাখা দরকার।