Advertisement
E-Paper

জানুয়ারির আংশিক বেতন পেলেন নিগম কর্মীরা

ফেব্রুয়ারি শেষের মুখে জানুয়ারি মাসের ৭১ শতাংশ বেতন হাতে পেলেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি) কর্মীরা। সংস্থা সূত্রের খবর, মন্ত্রী থেকে আমলা, অর্থ দফতরের বিভিন্ন মহলে তদ্বিরের পরে অবশেষে মাইনে মিলেছে। গত সপ্তাহে বিশেষ ভরতুকি হিসাবে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দেয় রাজ্যের অর্থ দফতর। যদিও তা থেকে কর্মীদের জানুয়ারি মাসের মূল বেতনের মাত্র সিংহভাগ মেটানোই সম্ভব হয়েছে নিগম কর্তৃপক্ষের।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৪২

ফেব্রুয়ারি শেষের মুখে জানুয়ারি মাসের ৭১ শতাংশ বেতন হাতে পেলেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি) কর্মীরা। সংস্থা সূত্রের খবর, মন্ত্রী থেকে আমলা, অর্থ দফতরের বিভিন্ন মহলে তদ্বিরের পরে অবশেষে মাইনে মিলেছে। গত সপ্তাহে বিশেষ ভরতুকি হিসাবে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দেয় রাজ্যের অর্থ দফতর। যদিও তা থেকে কর্মীদের জানুয়ারি মাসের মূল বেতনের মাত্র সিংহভাগ মেটানোই সম্ভব হয়েছে নিগম কর্তৃপক্ষের। চার দিন পরেই মার্চ মাস। সেখানে ফেব্রুয়ারির বেতন কবে মিলবে তা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সংস্থার কর্মী মহলে।

তাঁদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থেকে অফিসার কারও কাছেই এর জবাব মিলছে না। কীভাবে ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ, এই দুই মাসের বেতন মেটানো হবে তা নিয়ে নানা হিসাব নিকেশ শুরু হয়েছে। চলতি আথির্ক বছরে আর সরকার ভুর্তকি দেবে কী না সেই সংশয়ও দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের আর্থিক বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ডিসেম্বর মাসের পর থেকেই নিগমের বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী এবং অফিসারেরা সংস্থার বেহাল আর্থিক দশার জেরে মোট বেতনের ৭৪-৭৫ শতাংশ বেতন পেয়ে থাকেন। এবার পেলেন ৭১ শতাংশ। ডিপো প্রতি আয় থেকে বকেয়া মেটানো হলেও শিলিগুড়ি, কোচবিহার, রায়গঞ্জ এবং বহরমপুর ডিভিশন মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকার মত দাঁড়িয়েছে।

এদিন এনবিএসটিসি’র চেয়ারম্যান তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “জানুয়ারি বেতন প্রায় মেটানো গিয়েছে। অর্থ দফতরের বিভিন্ন মহলে কথা হয়েছে। কিছু টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। আমরাও আয় প্রতিমাসে বাড়ানোর চেষ্টা করছি।” আগামী দুই মাসের বেতন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান গৌতমবাবুর বক্তব্য, “দেখা যাক কী করা যায়! তবে কর্মীদের আশঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”

নিগম সূত্রের খবর, ২০১৪-১৫ সালের আর্থিক বছরে নিগমের জন্য রাজ্য সরকার প্রায় ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। এতে বেতনের জন্য ভর্তুকি ছিল ৬৫ কোটি টাকার মত। সংস্থার স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ২২৯৬ জন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী রয়েছে ১২০০ জনের মত। চুক্তি ভিত্তিক কর্মীরা অবশ্য প্রতিমাসে বেতন পেয়ে যান। এদের সকলের বেতন ৬-৮ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। সেই টাকা অর্থ দফতর আলাদা করে বরাদ্দ করে দিয়েছে। মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে স্থায়ী কর্মীদের বেতন নিয়েই।

পরিবহণ সংস্থার নিজস্ব আয় মাসে ৮ কোটি টাকার মত। বেতন বাবদ মাসে লাগে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। অন্যান্য খরচের জন্য মাসে আরও ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মত। কিন্তু গত বছর বকেয়া পেনশন, আদালতের মামলা সংক্রান্ত খরচ এবং স্বেচ্ছাবসরের জন্য তালিকাভুক্তদের কিছু মাসের সাধারণ বেতন দিয়ে গিয়ে সংস্থার আর্থিক বরাদ্দ শেষ হয়। এরমধ্যে ১৯ কোটি টাকা ছিল শুধু বকেয়া পেনশন মেটানোর খরচই। নিগমের এমডি পরিবহণ দফতরে নতুন করে ৪৭ কোটি টাকা মঞ্জুরের আবেদন করেন। এরই মধ্যে জানুয়ারির বেতন না মেলায় কর্মী মহলে ক্ষোভ ছড়ায়।

সংস্থা সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত ডিপো ভিত্তিক আয় থেকে কিছু কিছু টাকা করে কর্মীদের বেতন হিসাবে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরে ডিপো ভিত্তিক ১০-৩০ শতাংশ কিছু বেশি বকেয়া বেতনের টাকা দেওয়া শুরু হয়। যদিও একের ডিপোতে একেক রকম টাকা পান কর্মীরা। নিগমের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজারের মত আর সর্বোচ্চ ৭৫ হাজারের মত। শতাংশ হারে যে টাকা কর্মীরা পেয়েছেন, তাতে একমাস সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে বলে কর্মীরা জানান। নিগমের অফিসারদের একাংশ জানিয়েছেন, সিএসটিসি-র মত সংস্থাতেও আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তবে সেখানে কর্মীদের বেতন ১০০ শতাংশ হয়। ওই পরিবহণ সংস্থার অফিসারেরা প্রয়োজনে নিগমের অন্য খাতের টাকা সেই মাসে বেতনের জন্য ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে আয় থেকে তা মেটানো হয়। এনবিএসটিসি-র ক্ষেত্রে তা কোনও দিনই হয়নি।

siliguri kaushik chowdhury nbstc salary
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy