এসআইআর শুনানির জন্য হাজির হয়েছিলেন ব্লক অফিসে। সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থবোধ করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বৃদ্ধাকে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। মালদহে এই ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ পরিবারের। অন্য দিকে, এসআইআরের শুনানি থেকে ফিরে আত্মহত্যার অভিযোগ উত্তর ২৪ পরগনায়।
মালদহের চাঁচল-১ ব্লকের উত্তর বসন্তপুরের বাসিন্দা হামেদা বিবি। এসআইআর গণনাপত্রে কিছু বিভ্রান্তি থাকায় তাঁকে বিডিও অফিসে যেতে বলেছিলেন বিএলও। শুনানি ছিল শনিবার। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। পরিবারের দাবি, তার পরেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন তিনি। হামেদার পুত্র বলেন, ‘‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট থেকে যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছিল। তার পর পর চাওয়া হয় জমির দলিল। সে জন্য আবার ৭ দিন পর মাকে ব্লক অফিস আসতে বলা হয়। অফিস থেকে বেরোনোর পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে মা। চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। মায়ের এক পা আর হাত অসাড়। আর উঠে দাঁড়াতেই পারছে না।’’
বৃদ্ধার এই অবস্থার জন্য নির্বাচন কমিশন তথা স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করেছে পরিবার। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রবীণ এবং শারীরিক ভাবে অক্ষম ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআরের শুনানি করা হবে। কিন্তু হামেদার কথা জানানোর পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, হামেদার বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষা করে মানসিক চাপে ব্লক দফতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধা। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা বলাই দাসকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। শুনানি থেকে ফিরে তিনি বিষ খান। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক জানিয়ে দেন আগেই মারা গিয়েছেন বলাই। মৃতের স্ত্রী বলেন, ‘‘শুনানি থেকে ফিরে সমানে বলছিল, আমার আর মাথা কাজ করছে না। লোকজন বলছে তাড়িয়ে দেবে। তার পরেই এই কাণ্ড...।’’ তিনি জানান, বাবা-মায়ের নামের কোনও গন্ডগোল ছিল। সেই থেকে আতঙ্কে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছিলেন বলাই।