Advertisement
E-Paper

এসআইআর: ‘বিচারকদের উপর কমিশন প্রভাব খাটাচ্ছে’! রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টে, হস্তক্ষেপে নারাজ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি চাইলে সিভিল জজ (সিনিয়র এবং জুনিয়র ডিভিশন) নিয়োগ করতে পারবেন। যাঁদের অন্তত ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদেরও এসআইআর-এর কাজে নিয়োগ করা যাবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৯
(বাঁদিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং জ্ঞানেশ কুমার (ডানদিকে)।

(বাঁদিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং জ্ঞানেশ কুমার (ডানদিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) নিয়ে আবার রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অভিযোগ জানানো হল। কিন্তু তা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কার্যত ভর্ৎসনার সুরে বললেন, ‘‘পুরো প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য ছোটখাটো অজুহাত দেখাবেন না।’’

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়, নির্দেশ অমান্য করে এসআইআর নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজে যুক্ত বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের তরফে ও অভিযোগ পাওয়ার পরে বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পাল্টা প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ না দিলে নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজে যুক্ত বিচারকদের কে প্রশিক্ষণ দেবে?

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ভিন্‌রাজ্য থেকেও বিচারক নেওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাই কোর্টের অনুমোদনক্রমে ভিন্‌রাজ্যের বিচারক নিয়োগেও অনুমোদন দিয়েছিল কমিশনকে শুক্রবার নতুন করে আবার রাজ্যের তরফে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হলেও সুপ্রিম কোর্ট তাতে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের এস আই আর মামলা নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিচারকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অথচ আগেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিই পুরো প্রক্রিয়ার রূপরেখা বা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

কিন্তু শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে, বার বার কেন এসআইআর নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘পুরো প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য ছোটখাটো অজুহাত দেখাবেন না। বিষয়টির ইতি টানতে হবে। বিচারকদের কাজ করতে দিন। তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।’’ প্রসঙ্গত, ২৪ তারিখ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

শুক্রের শুনানিপর্বে রাজ্যের আইনজীবী কপিল বলেন, ‘‘কমিশন যদি বিচারকদের নির্দেশ দেয়—যেমন কোন শংসাপত্র গ্রহণ করতে হবে এবং কোনটি নয়—এ ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।’’ বিচারপতি বাগচী তা খারিজ করে বলেন, ‘‘আপনার কথা মেনে নিলে এই প্রক্রিয়াটি বোঝানোর জন্য বিচারকদের প্রশিক্ষণ দেবে কে? আমাদের নির্দেশ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কমিশন কোনও নির্দেশকেই অগ্রাহ্য করতে পারে না।’’ কপিল অভিযোগ করেন, মহকুমাশাসক দ্বারা প্রদত্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে না—এমন কথা বলা হচ্ছে। বিচারপতি বাগচী সেই অভিযোগও কার্যত খারিজ করে বলেন, ‘‘কমিশনের এসআইআরের বিজ্ঞপ্তি এবং আমাদের নির্দেশে কী রয়েছে সেটি দেখুন। সেখানে এই শংসাপত্র নিয়ে কী বলা হয়েছে। যদি নির্দেশ থাকে কমিশনকে অবশ্যই তার বিবেচনা করতে হবে।’’

SIR Special Intensive Revision Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy