বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষা-কর্মীকে পিটিয়ে মারার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হল এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই। সোমবার বিকালে দু’পক্ষের অভিযোগই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিকে কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। অভিযুক্তদের খোঁজ করা হচ্ছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে।’’ এদিনই মৃত শিক্ষাকর্মী দেবরাজ ভৌমিকের পরিবারের লোকজনও কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তবে ‘আগাম সময় নেওয়া হয়নি’, এই যুক্তিতে পুলিশ কমিশনার তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি।
ডিওয়াইএফআইয়ের দার্জিলিং জেলা নেতা তথা পুরসভার মেয়র পারিষদ সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘মেয়েটির অভিযোগকেও যেমন খতিয়ে দেখা উচিত, তেমনি কাউকে পিটিয়ে মারাটাও সমর্থন করা যায় না। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখুক। প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করুক।’’ সেই সঙ্গে কলেজের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন সিপিএমের শাখা সংগঠগন দুটির সদস্যরা। শঙ্করবাবু বলেন, ‘‘বিভিন্ন কলেজে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ কলেজের অনুমতি ছাড়া ভিতরে ঢোকে না। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের বোঝা উচিত কখন পুলিশকে ডাকতে হবে।’’ কলেজের পরিচালন সমিতির অন্যতম সদস্য সুজিত রাহা অবশ্য বলেন, ‘‘দু’জনকে ডেকে প্রকৃত বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তার পরেই পুলিশে জানানো হত। কিন্তু সে সময়ই পাওয়া গেল না। পরে মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।’’
৩১ অগস্ট শিলিগুড়ির দাগাপুরের একটি বেসরকারি কলেজের এক শিক্ষাকর্মী দেবরাজবাবুর বিরুদ্ধে মোবাইলে ছবি দেখানোর নাম করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন কলেজেরই এক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কলেজের অধ্যক্ষা শম্পা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সে ঘটনাটি জানিয়ে অভিযোগ করেন। সে দিন পুলিশকে কলেজের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। মঙ্গলবার সকালে দু’জনকে ডাকা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময়েই একদল ছাত্র ও বহিরাগত কিছু যুবক গিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক লাথি-ঘুষি মারে বলে অভিযোগ। গত শুক্রবার সকালে মারা যান দেবরাজ। মৃতের আত্মীয় দেবপ্রতিম সেন অভিযোগ করেন, ‘‘আমরা ঘটনার পরেই অভিযোগ দায়ের করেছি। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারি দাবি করছি।’’