Advertisement
E-Paper

পাতার দাম নেই, বিপাকে ছোট চা চাষিরা

কাঁচা পাতার দাম তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় বিপাকে উত্তরবঙ্গের প্রায় চল্লিশ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি। তাঁদের একাংশ পাতা ঝুরনি করে ফেলে দিয়ে বাগান বন্ধ করতে শুরু করেছেন। চাষিদের অভিযোগ, বটলিফ কারখানার মালিকেরা মর্জি মতো পাতার দাম নির্ধারণ করলেও চা পর্ষদের কর্তারা নির্বিকার।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:২৩

কাঁচা পাতার দাম তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় বিপাকে উত্তরবঙ্গের প্রায় চল্লিশ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি। তাঁদের একাংশ পাতা ঝুরনি করে ফেলে দিয়ে বাগান বন্ধ করতে শুরু করেছেন। চাষিদের অভিযোগ, বটলিফ কারখানার মালিকেরা মর্জি মতো পাতার দাম নির্ধারণ করলেও চা পর্ষদের কর্তারা নির্বিকার। যদিও চা পর্ষদের তরফে দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক পাতার দাম নিয়ে সমস্যার কথা কেউ তাঁদের জানায়নি। বটলিফ কারখানার মালিক সংগঠনের তরফেও ক্ষুদ্র চা চাষিদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় চা পর্ষদের সহকারী অধিকর্তা চন্দ্রশেখর মিত্র বলেন, “পর্ষদের দফতরের অভিযোগ জানানোর জন্য খাতা রাখা আছে। কেউ তো অভিযোগ জানায়নি।” চা পর্ষদ কর্তাদের ওই বক্তব্যে বেজায় চটেছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “পর্ষদ কর্তারা জেগে ঘুমোলে আমাদের কিছু করার নেই। পাতার দাম মিলছে না এটা সাধারণ মানুষ জানে। পর্ষদ কর্তারা জানেন না এটা মানতে হবে! দামের সমস্যা নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর পর্ষদের জলপাইগুড়ির দফতর ঘেরাও করা হয়েছে। এর পরেও বলছেন জানেন না!”

চাষিদের অভিযোগ, গত দু’মাস থেকে বটলিফ কারখানার মালিকেরা ইচ্ছে মতো পাতার দাম ঠিক করছেন। লোকসানের জেরে চা চাষের কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত উত্তরবঙ্গের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। যদিও বটলিফ কারখানার মালিক সংগঠন চা চাষিদের ওই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, গুণমানে ভাল পাতার দাম বেশি আছে। মালিক সংগঠনের সম্পাদক সতীশ মিত্রুকা বলেন, “পাতার মান ভাল রাখার জন্য চাষিদের কাছে বারবার আবেদন জানানো হচ্ছে। ভাল পাতার দাম শুক্রবারেও ১০-১২ টাকা কেজি ছিল।”

Advertisement

চা চাষিরা বটলিফ কারখানার মালিকদের সাফাই মানছেন না। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, গুণগত মানের অজুহাতে পাতার দাম কমানো হচ্ছে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের ময়নাগুড়ির রামসাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সভাপতি মানিক দে বলেন, “আমরা গ্রিন টি তৈরির জন্য পাতা উৎপাদন করি। কেজি প্রতি পাতার দাম ২৫ টাকা হওয়া উচিত, কিন্তু মিলছে ১৩ টাকা।” চাষিরা জানান, সাধারণ চায়ের জন্য যে কাঁচা পাতা দরকার, তার দাম ৬ টাকা কেজিতে নেমেছে। অথচ এক কেজি পাতার উৎপাদন খরচ ১৩ টাকা। ওই পরিস্থিতিতে আমগুড়ি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তাঁদের বাগানের পাতা ঝুরনি করে ফেলে দিচ্ছে।

একই পরিস্থিতি রাখালহাট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি সদর, রাজগঞ্জ ব্লক জুড়ে একই ছবি। কয়েকশো ছোট চাষি ইতিমধ্যে ঝুরনি করে পাতা ফেলে দিয়ে বাগান বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এই সময় পাতা বিক্রি করে তাঁদের বোনাসের টাকা সংগ্রহ করার কথা। ক্ষুদ্র চা চাষি সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সহ সভাপতি রজত কার্জি বলেন, “উত্তরবঙ্গে ৪০ হাজার চা চাষি রয়েছে। পাতার দাম কমে যাওয়ায় তাঁরা ভাবতে পারছেন না কেমন করে পরিস্থিতি সামলে উঠবেন।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy