মালদহ কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে প্রশাসক বসাল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কলেজের প্রশাসক করা হল জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদীকে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আচমকা মালদহ কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ায় শহর জুড়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ ওই কলেজের পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। কৃষ্ণেন্দুবাবু এখন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুর্গাপুরের এক নার্সিং হোমে। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই কি কৃষ্ণেন্দুবাবুকে মালদহ কলেজের পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেও।
যদিও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ সমূহের পরিদর্শক অপূর্ব চক্রবতী বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সংশোধিত স্ট্যাটিউট কার্যকর করার জন্যই উপাচার্যের নির্দেশে পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে মালদহ কলেজের।’’ আগামী দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সমস্ত কলেজের পরিচালন সমিতি ভাঙা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য গোপাল মিশ্র।
গত, ২৪ অগষ্ট বিকেলে মালদহ কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ কর্তৃপক্ষকে মেল মারফৎ বিষয়টি জানায়। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিচালন সমিতিতে মোট ১১ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন প্রতিনিধি রয়েছেন। চেয়ারম্যান ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। আর এই কলেজেরই পরিচালন সমিতি ভেঙে যাওয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে শহরে। পরিচালন কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দুবাবুর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা দেবপ্রিয় সাহা অবশ্য বলেন, ‘‘কলেজের ভালোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে আমার বলার তেমন কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিচালন সমিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন করে প্রতিনিধি থাকত। নতুন নিয়মে তিনজন করে প্রতিনিধি থাকবে। নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ শুধু মালদহ কলেজই নয়, আগামী দিনে গৌড় কলেজ, সামসি কলেজ, কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জ কলেজ ও সাউথ মালদহ কলেজেরও পরিচালন সমিতি ভেঙে ফেলে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। ছ’মাস করে প্রশাসক থাকবে। মালদহ কলেজের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চিঠি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী।