আসন সংখ্যা বাড়িয়ে আবেদনকারী সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার একই দাবিতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই দলের পৃথক আন্দোলনকে ঘিরে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠল। বুধবার দুপুর নাগাদ জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজের ওই ঘটনা দেখে অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রীদের একাংশ অবাক হলেও মুখ খোলেননি। একদল তৃণমূল সমর্থক এদিন অধ্যক্ষের ফাঁকা ঘরে অবস্থান করেন। অন্যদল খালি পায়ে কলেজ চত্বরে মিছিল করে দাবির কথা জানান। ওই পরিস্থিতিতে জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতৃত্ব গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনার খবর পেয়ে সংগঠনের কলেজ ইউনিট নেতৃত্বের সঙ্গে আলচনায় বসতে তৎপর হয়েছেন।
জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি অভিজিৎ সিংহ বলেন, “কলেজে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কোন ঘটনা নেই। কলকাতায় আছি। ফিরে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলব।” যদিও ঘটনার খবর পেয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “এসব হতে দেওয়া যাবে না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
বুধবার দুপুর নাগাদ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নিয়ন্ত্রিত কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিজু সূত্রধরের নেতৃত্বে একদল ছাত্রছাত্রী অধ্যক্ষের ঘরে অবস্থান আন্দোলন শুরু করেন। ওই সময় সংগঠনের কলেজ ইউনিট ইনচার্জ সুপ্রিয় ঘোষ সহ কয়েকজনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রছাত্রী খালি পায়ে কলেজ চত্বরে মিছিল শুরু করেন। দুই গোষ্ঠীর একই দাবি--আসন সংখ্যা বাড়িয়ে আবেদনকারী সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ করে দিতে হবে। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কলেজের পাস কোর্সে আসন সংখ্যা ৯৮১। অন লাইনে ৬৯২ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। আরও ৮০০ জন আবেদনকারী ছাত্রছাত্রী এখনও ভর্তি হতে পারেনি। তাই আমরা আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রত্যেকের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তুলেছি।” বাইরে ওই দাবিতে যে ছাত্রছাত্রীরা খালি পায়ে মিছিল করছেন তাঁরা কোন সংগঠনের? সাধারণ সম্পাদকের সংক্ষিপ্ত জবাব, “জানি না।” যদিও কলেজ চত্বরে খালি পায়ে মিছিলের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কলেজ ইউনিট ইনচার্জ বলেন, “সমস্ত ছাত্রছাত্রীর ভর্তির দাবিতে আমরা খালি পায়ে মিছিল করেছি।” অবস্থান আন্দোলনে নেই কেন? ইউনিট ইনচার্জের উত্তর, “ঘরে বাইরে চাপ সৃষ্টির জন্য দুভাবে আন্দোলন চলছে।”
আন্দোলন চলাকালীন কলেজের অধ্যক্ষ ধীরাজ ঘোষ কলেজে ছিলেন না। এমনকি বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য তথা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান সুদীপ চক্রবর্তী ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, কলেজে ক্লাস ঠিক মতো চলছে। একই ছাত্র সংগঠনের দুই ধরনের আন্দোলন দেখে অবাক কয়েকজন ছাত্রছাত্রী বক্তব্য, “আনন্দচন্দ্র কলেজে একই ছাত্র সংগঠনের দুই দলের পৃথক আন্দোলন এর আগে দেখা যায়নি। বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে।”
যদিও কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এটা এমন কিছু নয়। ওঁদের দাবি একই। অধ্যক্ষ এখনও কিছু জানায়নি। জানালে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”