Advertisement
E-Paper

হাসপাতালে কেন জখম শিশু, প্রতিবাদ

ভ্যান রিকশা উল্টে স্যালাইনের প্যাকেটে চাপা পড়ে পাঁচ বছরের শিশু জখমের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হলেন জলপাইগুড়ি শহরের লাগরিক সমাজ ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অগস্ট ২০১৫ ০২:১৮

ভ্যান রিকশা উল্টে স্যালাইনের প্যাকেটে চাপা পড়ে পাঁচ বছরের শিশু জখমের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হলেন জলপাইগুড়ি শহরের লাগরিক সমাজ ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ওই ঘটনায় দায় কার তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ সদর হাসপাতাল চত্বরে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা চাইল্ড প্রোটেকশন দফতর এবং জেলা প্রশাসনের তরফে কেউ শিশুর পরিবারের সঙ্গে কেন যোগাযোগ করেনি। আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনির হ্যামিলটনের বাসিন্দা রাজু সরকার নামে ওই শিশুর বা-পায়ের হাড় ভেঙে যায়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বুধবার সকালে অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ পায়ে প্লাস্টার করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হতে এদিন শহরের সমাজসেবীদের একাংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং কর্তব্যের অবহেলার অভিযোগ তুলে সরব হন। জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, “পুরোপুরি কর্তব্যে অবহেলার জন্য ঘটনাটি ঘটেছে। ভিড়ে ঠাসা হাসপাতাল চত্বর দিয়ে স্যালাইনের বোতল নেওয়ার সময় কেন বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে না সেটা আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইব। এক্ষেত্রে শিশুটির অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।” একই অভিযোগ তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সুব্রত সরকার। তাঁর প্রশ্ন, “কেন ভ্যান রিকশায় স্যালাইনের বোতলের প্যাকেট ষ্টোর থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হবে? কেন ট্রলির ব্যবস্থা করা হবে না?” ঘটনার পরে প্রশাসনের তরফে কেন খোঁজ নেওয়া হয়নি তা নিয়েও সুব্রতবাবুরা প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও মহকুমাশাসক সীমা হালদার বলেন, “ঘটনাটি জানতাম না। নিশ্চই খোঁজ নেব।” জেলা চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার সুস্মিতা ঘোষ বলেন, “ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। হাসপাতাল সুপার পার্থ দে বলেন, “এটা নিছকই দুর্ঘটনা। এখানে কর্তব্যের গাফিলতির কিছু নেই। আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চয়ই নেওয়া হবে। ঘটনার পরে শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।” হাসপাতালের অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ কমলেশ বিশ্বাস বলেন, “শিশুটির বা পায়ের হাঁটুর উপরের হাড় ভেঙেছে। দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। আবার এক্স-রে করে হাড়ের পরিস্থিতি দেখা হবে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ফের এক্স-রে করার পরে যদি দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি তবে অপারেশনের জন্য শিশুটিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। অসুস্থ পিসিকে দেখার জন্য মঙ্গলবার মা ও বাবার সঙ্গে রাজু হাসপাতালে যায়। কিন্তু সিকিউরিটি বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে মানা করায় বাবা হাসপাতালের ভিতরে গেলেও সে বাইরে মায়ের সঙ্গে থাকে। ওয়ার্ডের সামনে রাস্তায় আচমকা স্যালাইনের প্যাকেট বোঝাই একটি রিকশা ভ্যান উল্টে যায়। স্যালাইনের প্যাকেটে চাপা পড়ে শিশুটি জখম হয়। এদিন প্লাস্টারের পরে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে সে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বায়না তুলে কাঁদতে থাকে। শিশুর মামা সঞ্জীব রায় বলেন, “চিকিৎসকরা বারবার দেখে যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে কেউ আসেনি। এলে বলব যেন ভ্যান রিকশায় স্যালাইনের বোতল নিয়ে যাওয়া না হয়।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy