E-Paper

নথির ‘সুপার যাচাই’য়ের নির্দেশ, অসন্তোষ বিরোধীর

শুনানিতে ভোটারেরা যে নথি জমা দিয়েছিলেন, তা প্রাথমিক ভাবে যাচাই করেছেন সেখানে থাকা নির্বাচনী আধিকারিকেরা। কিন্তু সেই নথি যাচাই শুরু করে যে ‘অসঙ্গতি’ ধরা পড়েছে, তা-ই আবার খতিয়ে দেখার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

তথ্যের অমিল হওয়ায় নতুন করে ২০ লক্ষের বেশি ভোটারের নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মূলত মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসকদের এই নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে নানা মহলে। কারণ, সূত্রের দাবি, এই যাচাইয়ের কাজে ১০০% সন্তুষ্ট হতে না-পারলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে নারাজ কমিশন। আর এই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে ফের নতুন করে তরজা বেধেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে।

শুনানিতে ভোটারেরা যে নথি জমা দিয়েছিলেন, তা প্রাথমিক ভাবে যাচাই করেছেন সেখানে থাকা নির্বাচনী আধিকারিকেরা। কিন্তু সেই নথি যাচাই শুরু করে যে ‘অসঙ্গতি’ ধরা পড়েছে, তা-ই আবার খতিয়ে দেখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সূত্রের দাবি, ওই ভোটাররা শুনানির সময়ে যে সব নথি জমা দিয়েছেন, তা কমিশনের নির্দিষ্ট করা নথি নয়। এই ‘অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করেই মাইক্রো অবজ়ার্ভারেরা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নতুন করে নথি ফেরত পাঠাতে উদ্যোগী হয়েছেন। মাইক্রো অবজ়ার্ভারেরা যে ‘সুপার যাচাই’ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, এই পর্ব তারই অংশ। অন্য দিকে, কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, নতুন করে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলেও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের তরফে বহু জায়গায় তা শুরু করা যায়নি। তাই যাচাইয়ের সঙ্গে গোটা কাজই কার্যত থমকে রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে, ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ এবং তার পরের সাত দিনের মধ্যে তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করার কথা। সে ক্ষেত্রে সময় ধরে এই যাচাইয়ের কাজ এগোতে পারলেই ২৮ তারিখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব।

যদিও কমিশনের এই যাচাই প্রক্রিয়াকে ‘কারচুপির মরিয়া চেষ্টা’ বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “বিজেপির কাছ থেকে কমিশন যে সংখ্যায় নাম বাদ দেওয়ার বরাত পেয়েছে, তা কোনও ভাবেই পূরণ করতে পারছে না। তাই নিত্যনতুন ফন্দি বার করছে। কিন্তু তাতে গোটা প্রক্রিয়া তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।” পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম-ও। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “এক দিকে মানুষের হেনস্থা চলছে। পাশাপাশি, কমিশন ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মনোভাব নিয়ে চলছে, যেটা অসাংবিধানিক। সে জন্য এআরও, এইআরও-দের উপরে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অন্যায় ভাবে কারও নাম বাদ দেওয়া হলে, আমরা শেষ পর্যন্ত পাশে থাকব।”

এই প্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অবশ্য বক্তব্য, “এই নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের দাবি, ৭ নম্বর ফর্ম (ভোটার তালিকায় থাকা কারও নাম নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য) জমা নিতে হবে। ত্রুটি-মুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া রাজ্য, বাংলাদেশে জামাতের উত্থান— জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টা ভাবতে হবে। পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে দেশে ছড়িয়ে পড়তে না-পারে। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না-হলে ভোট হবে না।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Voter Lists

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy