বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা বাস আচমকাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ছোট লরি, সাইকেল ও মোটরবাইকে ধাক্কা মারে। এর পরেই ওই বাসের চাকায় পিষে মৃত্যু হয় এক সাইকেল আরোহীর। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে বিটি রোডের সোদপুরে। বাসের ধাক্কায় আহত চার জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গণেশ দাস (৪৫)। বাড়ি সোদপুরের শহিদ কলোনিতে। এ দিন বাজার করে ফিরছিলেন। সোদপুরের ধানকল মোড়ের কাছে বিটি রোড পেরোনোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন ধর্মতলা-ব্যারাকপুর রুটের একটি বেসরকারি বাস তীব্র গতিতে সোদপুর ট্র্যাফিক মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি সরকারি বাসের সঙ্গে রেষারেষি করছিল ওই বাসটি। তাতে দুর্ঘটনা ঘটে। যদিও পুলিশ রেষারেষির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাসটি প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছোট লরিতে ধাক্কা মারে। তাতে ওই লরির পিছনের ডালা খুলে বেরিয়ে যায়। এর পরে বাসটি একটি বাইক ও সাইকেলে ধাক্কা মারে। তার পরে গণেশকেও পিষে দেয়। মহম্মদ আলি নামে আর এক সাইকেল আরোহীও বাসের তলায় ঢুকে যান। তবে তিনি কোনও মতে বেঁচে গিয়েছেন। জখম হন আরও তিন জন। তাঁদের সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোদপুর ট্র্যাফিক গার্ড ও খড়দহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাসের চালক ও কন্ডাক্টর চম্পট দেয়। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। মৃতের পরিচয় প্রথমে জানা যায়নি। পরে বিটি রোডে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গণেশের পরিজনেরা খোঁজ শুরু করেন। তখন পুলিশ পরিচয় জানতে পারে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই শহিদ কলোনি। এ দিন সাইকেল নিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিজনেরা খোঁজ নিতে গেলে বিষয়টি জানা যায়। বিটি রোডে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)