এক সময়ে দোতলা বাড়িতে চলত শারীরিক ভাবে অক্ষমদের বিদ্যালয় ও পাঠ্য পুস্তকের গ্রন্থাগার। মিলত সরকারি অনুদানও। পুর কর্তৃপক্ষকে অন্ধকারে রেখে সম্প্রতি সেই স্কুলের জমির মিউটেশনের অভিযোগ উঠেছে। কী ভাবে হল, জানতে চেয়ে তাঁরই পুরসভার মিউটেশন বিভাগকে শো-কজ় করলেন পুরপ্রধান।
সম্প্রতি পানিহাটির এই জমি-বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো (যার সত্যতা আনন্দবাজার পত্রিকা যাচাই করেনি) পোস্ট করে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে বিধায়ক নির্মল ঘোষের দিকে। পুর বোর্ডের বৈঠকের রেজ়োলিউশন অনুযায়ী, কোনও জমির মিউটেশন করাতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধির সম্মতি প্রয়োজন। সেই নিয়মও মানা হয়নি বলে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাসকদলের পুরপ্রতিনিধিদের একাংশ।
এ বিষয়ে তিনি অন্ধকারে বলে দাবি পুরপ্রধান সোমনাথ দে-র। তিনি বলেন, ‘‘কার নির্দেশে, কার নামে মিউটেশন হল এবং জমির চরিত্র কী, সেটা কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে জানতে চেয়েছি।’’ এর আগেও সোদপুরে অমরাবতী মাঠের জমি বিক্রি নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। পরে সেই জমি রাজ্য অধিগ্রহণ করে।
পানিহাটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক কাঠা জমির মধ্যে প্রায় দু’হাজার বর্গফুট জুড়ে দোতলা বিধানচন্দ্র রায় বিদ্যায়তন বা প্রতিবন্ধী স্কুল এবং গ্রন্থাগার ছিল। বাম আমলেই এক ব্যক্তি ওই জমি দান করেছিলেন বলে খবর। ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্মল। যদিও কয়েক বছর আগেই বিদ্যালয় ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন স্কুলের উন্নয়নে কেন্দ্রের অনুদান মিলেছিল। রাজ্যের অনুদানও আসত। স্থানীয় শাসকদলের নেতৃত্বের একাংশ ও বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল ভেঙে দেওয়া হল কী ভাবে? সরকারি অনুদানের খরচের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি সকলেরই।
স্থানীয় বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই স্কুলের জমি খাস বলে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত। কয়েক বছর আগে জমি নিজের এবং পরিজনদের নামে রেজিস্ট্রেশন করেছেন বিধায়ক!’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতেই কয়েক দিন আগে বিধায়ক নিজে পুরসভায় গিয়ে মিউটেশন করিয়েছেন।’’ স্থানীয় সিপিএম নেতা শুভব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পানিহাটির বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের জমির মতো প্রতিবন্ধী স্কুলের জমিও বাঁচবে না। সবই বিধায়কের কুক্ষিগত।’’
নির্মলের দাবি, স্কুলের জমি সোসাইটির নামে ২০০৫ সালে রেজিস্ট্রি হয়। তিনি সোসাইটির সভাপতি ও তাঁর মেয়ে প্রিন্সিপাল থাকায় রেজিস্ট্রিতে নাম ছিল। সরকারি জমি কেউ বিক্রি বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। নির্মলের দাবি, ‘‘২০২৩ সালে ওই জমির মিউটেশন হয়েছে। ওখানে জমিদাতাদেরও জায়গা রয়েছে। সেই পরিমাণ নথিবদ্ধ করা ও জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি পুরসভায় আবেদন করা হয়।’’ পুরপ্রধান শোকজ় করে পদ্ধতিগত বিষয় জানতে চেয়ে ঠিক করেছেন বলেও দাবি বিধায়কের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)