Advertisement
E-Paper

‘এএলএস’ কেড়ে নেয় হাঁটাচলার ক্ষমতা, পঙ্গু হয় শরীর, রোগটির সঙ্গে জিনের যোগসূত্র পেলেন বিজ্ঞানীরা

স্নায়ুর সব জটিল রোগই যে জিনগত, তা নয়। পরিবেশ, নানা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও যাপন পদ্ধতিও এর জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে বিশ্বে যে রোগটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তা হল অ্যামিয়োট্রপিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা সংক্ষেপে এএলএস। এই রোগের সঙ্গে জিনের যোগসূত্র পেয়েছেন হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা।

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪
Harvard scientists are actively studying genetic links and early warning signs of ALS

বংশগত ভাবেও কি ছড়াতে পারে স্নায়ুর জটিল রোগ? ছবি: ফ্রিপিক।

নাম শুনলেই আতঙ্ক হয়। হৃদ্‌রোগ, ব্রেন স্ট্রোক বা করোনার মতো প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক স্নায়ুর এই জটিল রোগটি। স্নায়ুর এই রোগে আজও মানুষ অসহায়। না এর কোনও সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি আছে, না রোগটিকে ঠেকানোর জন্য রয়েছে কোনও প্রতিষেধক। জটিল ও প্রাণঘাতী এই স্নায়ুর রোগটির নাম অ্যামিয়োট্রপিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা সংক্ষেপে এএলএস। রোগটি কেন ও কী থেকে হতে পারে, তা নিয়ে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা দীর্ঘ সময় ধরেই গবেষণা চালাচ্ছিলেন। তাঁরা দাবি করেছেন, রোগটির সঙ্গে জিনের সংযোগ রয়েছে। জিনগত কারণেই রোগটি বাসা বাঁধে শরীরে। এই জিন পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও বাহিত হতে পারে।

এই রোগটি ‘লউ গেহ্‌রিগ'স ডিজ়িজ়’ ও ‘চার্কট’স ম্যালাডি’ নামেও পরিচিত। হার্ভার্ডের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগটির সঙ্গে জিনের সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। দেখা গিয়েছে, বংশগত ভাবে বাহিত হতে পারে রোগটি। প্রায় ত্রিশটিরও বেশি জিন এর সঙ্গে জড়িত। যে জিনটির ভূমিকা বেশি, তার নাম এসওডি১। এটির একটি অংশ এত বার রাসায়নিক ভাবে বদলে যায় যে, বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয় শরীরে। এই প্রোটিন পেশির ক্ষয় ঘটাতে থাকে। ধ্বংস করতে থাকে স্নায়ুকোষ। ফলে একটা সময়ে গিয়ে রোগী হাঁটাচলা করার ক্ষমতা হারান। কথা বলার ক্ষমতাও লোপ পেতে থাকে। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। অন্যান্য যে জিনগুলিও এর জন্য দায়ী, তার মধ্যে রয়েছে টিডিপি-৪৩। এই জিনটির মিউটেশন হয়ে এমন প্রোটিন তৈরি করে, যা স্নায়ুর কোষগুলির মৃত্যু ঘটায়।

এএলএস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংও। মাত্র বাইশ বছর বয়সে হকিংয়ের এই রোগ ধরা পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, প্রতি ১ লাখের মধ্যে ৫ জনের এই রোগ হতে পারে। এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল হাঁটতে গিয়ে বারে বারে হোঁচট খাওয়া। ধীরে ধীরে পায়ের পেশি অসাড় হতে শুরু করবে। হাঁটাচলায় কষ্ট হবে। শুধু পা নয়, একই সঙ্গে হাতের পেশিও দুর্বল হতে শুরু করবে। হাত দিয়ে কোনও কাজই আর করা যাবে না। কেবল পেশির অসাড়তা নয়, কথা বলতে, খাবার গিলতেও সমস্যা হতে পারে রোগীর। ক্ষতি হবে কণ্ঠনালিরও। কথা বলার ক্ষমতাও চলে যাবে ধীরে ধীরে।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, যাঁদের পরিবারে আগে এএলএস বা ওই জাতীয় স্নায়ুর জটিল রোগের ইতিহাস আছে অথবা পরিবারের কেউ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশে ভুগছেন, তাঁদের কিছু জিনগত পরীক্ষা করিয়ে রাখা ভাল। কী ধরনের পরীক্ষা করাতে হবে, তা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের ইতিহাস দেখেই স্থির করবেন চিকিৎসক।

Neurological Disease Genetic Disease
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy