Advertisement
E-Paper

রাগে অগ্নিশর্মা হলেই ধাক্কা লাগবে হার্টে! মাত্র ৮ মিনিটের ক্রোধেই ছিঁড়ে যেতে পারে রক্তজালিকা

রাগে যতই দাঁত কিড়মিড় করুন, তাতে মনের জ্বালা মিটবে ঠিকই, কিন্তু গোলমাল বাধবে হার্টে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রচণ্ড রাগের সময়ে শরীরে এমন কিছু বদল হয়, যা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য মোটেই ভাল নয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৬
New research shows just 8 minutes of anger can impair blood vessel function

প্রচণ্ড রাগের সময় আপনার শরীরে কী কী বদল হয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রেগে আগুন, তেলে বেগুন হয়ে যাকে পারলেন দু’চার কথা শুনিয়ে দিলেন, তাতে হার্টের খুব একটা ভাল হবে না। রাগ যত বাড়বে, যত বেশি দাঁত কিড়মিড় করে রাগ প্রকাশ করবেন, ততই ধাক্কা লাগবে হৃদয়ে। এমনটাই দাবি করেছেন গবেষকেরা। রাগও হরেক রকম হয়। কেউ কথায় কথায় রাগ করেন, কারও মেজাজ সব সময়েই তিরিক্ষি থাকে, কেউ আবার ভয়ানক বদরাগি, রেগে গেলে হুঁশই থাকে না। তা সে যেমন রাগই হোক না কেন, যদি টানা ৮ মিনিট স্থায়ী হয় তা হলেই মুশকিল। ওই ৮ মিনিটেই নাকি ওলটপালট হয়ে যেতে পারে শরীর। ছিঁড়ে যেতে পারে রক্তজালিকা, রক্ত চলাচল বাধা পেতে পারে ধমনীতে এবং হঠাৎ করেই হতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

আসলে রেগে গেলে মস্তিষ্কের কাজকর্মেও গোলমাল হয়ে যায়, এমনটাই মত আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষকদের। মনোবিজ্ঞান বলে, রাগ হল ‘নেগেটিভ ইমোশন’। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেই তার বহিঃপ্রকাশ অতি তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পেশাগত ক্ষেত্রে হোক বা সাংসারিক জীবনে, মনের উপর চাপ যে ভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে রাগ হয় না বা রেগে যান না, এমন মানুষ বিরল। যদিও তার বহিঃপ্রকাশ সকলের ক্ষেত্রে সমান নয়। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, রাগ হলেও যদি তা নিয়ন্ত্রণের উপায় জানা থাকে, তা হলে ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি তা না হয়, এবং একটানা সেই রাগ পুষে রাখেন বা রেগে গিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, তখনই গোলমাল বাধবে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষকেরা প্রাথমিক ভাবে ২৮০ জনের উপরে একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন, অংশগ্রহণকারীরা যখনই রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠেছেন ও টানা ৮ মিনিট ধরে রাগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, তখন তাঁরা বুকে চাপ চাপ ব্য়থা অনুভব করেছেন। শারীরিক অস্বস্তি চরমে উঠেছে। পরীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেছেন, প্রচণ্ড রাগের সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অঞ্চলে হাইপোথ্যালামাস উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সেই সঙ্কেত পৌঁছে যায় পিটুইটারি গ্রন্থিতে। এতে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গেই স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়ে। এই দুই হরমোন মিলেই এমন গোলমাল বাধায়, যার সরাসরি প্রভাব হবে হৃদ্‌যন্ত্রে। আচমকা বেড়ে যায় রক্তচাপ, অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে হৃৎস্পন্দন, যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও একটি বদল হয় শরীরে। রাগের মাথায় প্রচণ্ড চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে রক্তনালি ও রক্তজালিকার এন্ডোথেলিয়াম স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই এন্ডোথেলিয়াম হল রক্তনালি, লসিকানালি ও হার্টের ভিতরের গহ্বরের একটি আস্তরণ, যা রক্তের প্রবাহ, রক্তের জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে। এই স্তরটির ক্ষতি হলেই রক্তপ্রবাহ বাধা পায়। ধমনীর ভিতরে রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে। যার ফলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু হার্টই নয়, রাগের বহিঃপ্রকাশ তীব্র হলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে শুরু করে। তাই রাগ যতই করুন, তাকে বশে রাখার উপায়ও আয়ত্ত করে নেওয়া ভাল।

anger Heart Attack Risk
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy