বাজারে বিকোচ্ছে চকচকে পটল, বেগুন, শিম, টম্যাটো। মাঠের ফসল এত ঝকঝকে হয় কী করে! সন্দেহ হলেও কিছু করার নেই। ওই সব্জিই কিনতে হচ্ছে গৃহস্থকে। শাকপাতা হোক বা সব্জি, একদম টাটকা দেখনোর জন্য তাতে কৃত্রিম রং মেশানো হয় অনেক জায়গাতেই। কৃত্রিম রঙে রাঙানো এ সব জিনিস ব্যাগে বয়ে ঘরে নিয়ে গেলেই বিপদ। টাটকা সব্জি বা ফল ভেবে যা খাওয়া হচ্ছে, হয়তো তাতেই লুকিয়ে রয়েছে বিষ। খবর, অন্যান্য সব্জির মতো বাজারে এখন ভেজাল টম্যাটোরও ছড়াছড়ি! আসলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তারা। উজ্জ্বল লাল রং দেখে তাজা ভেবে যা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে, তা আদৌ আসল না নকল, চিনে নিতে হবে।
টম্যাটোয় কী কী মেশানো হচ্ছে
রান্নায় টম্যাটো লাগবেই। আর টম্যাটো খুব বেশি দিন রেখে বিক্রি করা যায় না, নষ্ট হয়ে যায়। তাই এর তাজা ভাব ধরে রাখতে নানা রকম রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে বলে খবর। আবার ফলন বৃদ্ধি করতে প্রাকৃতিক ভাবে না পাকিয়ে রাসায়নিক মিশিয়ে তা পাকানোর পদ্ধতিও চলে অনেক জায়গায়। এতেও বিষ ঢুকে যায় সব্জিতে। যেমন ক্যালশিয়াম কার্বাইড। এটি এটি কাঁচা টম্যাটো দ্রুত পাকানোর জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই রাসায়নিক শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে আর্সেনিক ও ফসফরাস নির্গত হয়, যা ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইথিফন নামে এক ধরনের রাসায়নিক আছে, যা মেশালে টম্যাটোর রং উজ্জ্বল লাল হয়। তখন দেখে মনে হবে একেবারে টাটকা ও তাজা টম্যাটো।
টম্যাটোকে আরও লালচে ও তাজা দেখাতে রোডোকোমাইন নামে এক ধরনের রঞ্জকও মেশানো হয়ে থাকে। সেটিও ক্ষতিকর।
টম্যাটো দীর্ঘ সময় তাজা রাখতে ও পচন রোধ করতে এর সঙ্গে মেশানো হয় ফর্মালিন। এই ফর্মালিন দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে গেলে কিডনি, লিভার, পাকস্থলী ও হার্টের ক্ষতি হতে পারে।
ভেজাল চেনার উপায় কী?
১) প্রাকৃতিক ভাবে পাকা টম্যাটো খুব উজ্জ্বল লাল হবে না, লালের সঙ্গেই হলদেটে ও সবুজ রঙের সংমিশ্রণ থাকবে।
ভেজাল টম্যাটোর পুরোটাই খুব উজ্জ্বল লাল ও আকর্ষণীয় হবে দেখতে।
২) টম্যাটো কাটার পর যদি দেখেন, এর বাইরের অংশ লাল কিন্তু ভিতরের বীজগুলি হালকা সবুজ বা সাদাটে, তবে বুঝবেন এটি কৃত্রিম ভাবে পাকানো হয়েছে। প্রাকৃতিক ভাবে পাকা টম্যাটোর ভিতরটা রসালো এবং লালচে হয়।
৩) টম্যাটো কাটার পর একটি মিষ্টি সুগন্ধ পাওয়া যায়। ভেজাল মেশানো থাকলে ঝাঁঝালো ওষুধের গন্ধ পাওয়া যাবে।
৪) গাছপাকা টম্যাটো খেতে টক-মিষ্টি হবে, কিন্তু রাসায়নিক মেশানো থাকলে তাতে যেমন তীব্র গন্ধ থাকবে, তেমনই খেতেও পানসে হবে।