২২ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে কোন দলকে সমর্থন করবে মর্কেল পরিবার? চিন্তায় অ্যালবি ও মর্নি মর্কেলের মা।
মারিয়ানা মর্কেলের দুই ছেলেই দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন। কিন্তু এখন তাঁরা দুই ভিন্ন শিবিরে। বড় ছেলে নিজের দেশ অ্যালবি দক্ষিণ আফ্রিকার পরামর্শদাতা কোচ। ছোট ছেলে মর্নি ভারতের বোলিং কোচ। তাতেই সমস্যা। মারিয়ানা বুঝতে পারছেন না, সুপার এইটে কাকে সমর্থন করবেন। তবে কিছুটা হলেও তিনি ঝুঁকে অ্যালবির দিকে। কারণ, অ্যালবি তাঁর নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার পরামর্শদাতা কোচ। ফলে বোঝা যাচ্ছে, মর্নি সেই ম্যাচে পরিবারের সমর্থন হয়তো পাবেন না।
দিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে অ্যালবি এই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে এখন কথা হচ্ছে না। আমার মনে হয়, আমাদের থেকে মা বেশি চিন্তায়। মা বুঝতে পারছে না, ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা, কাকে সমর্থন করবে।”
সুপার এইটে ভারত ছাড়াও জ়িম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে খেলতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তিনটি ম্যাচের জন্যই তৈরি তারা। আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের অনেকটা সুবিধা করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যালবি। তিনি বলেন, “আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে। ওরা ভারতের মাটিতে আইপিএল খেলে। ফলে এখানে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে। চাপ সামলে ভাল খেলার ক্ষমতা আমাদের আছে। তবে হ্যাঁ, সুপার এইটে চাপ তো থাকবেই। আশা করি, আমরা চাপ সামলাতে পারব।”
দক্ষিণ আফ্রিকার দলে পরামর্শদাতা হিসাবে যোগ দেওয়ার আগে নামিবিয়া ও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছেন অ্যালবি। নতুন দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, “খুব মজার দায়িত্ব। সারা দিন খাটতে হচ্ছে। প্রতিপক্ষের সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে হচ্ছে। তবেই তো পরামর্শ দিতে পারছি। আশা করছি দলের জয়ে আমার ভূমিকা আছে।”
আরও পড়ুন:
কোচের ভূমিকায় থাকলেও এখনও নিজেকে ক্রিকেটার হিসাবেই ভাবেন অ্যালবি। মাঠে থাকলে তিনি কী করতেন, সেটা ভেবে পরামর্শ দেন। অ্যালবি বলেন, “হতে পারি আমি কোচ, কিন্তু আমার শুরু তো ক্রিকেটার হিসাবে। আজও ভাবি, আমি মাঠেই আছি। ভাবি, আমি ওই জায়গায় থাকলে কী করতাম। সেই পরিকল্পনা আমি দলের সকলকে বোঝাই। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসে থাকার সময় স্টিফেন ফ্লেমিংকে কাছ থেকে দেখেছিলাম। ওঁর কাছে অনেক কিছু শিখেছি।”
এক সময় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একসঙ্গে খেলেছেন দুই ভাই। ব্যক্তিগত লড়াইয়ে এগিয়ে মর্নি। কারণ, তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার বেশি লম্বা। এ বার লড়াই দুই কোচের। তা-ও আবার বিশ্বকাপের সুপার এইটে। এখন দেখার, সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন।