গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট। কোয়ার্টার ফাইনালে ইনিংসে জয়। এক্সপ্রেস গতিতে এগোচ্ছিল বাংলা। দেখে মনে হচ্ছিল, জম্মু-কাশ্মীর এই দলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না। তা-ও আবার কল্যাণীতে। বাংলার ঘরের মাঠে। কিন্তু দু’ঘণ্টার এক সেশনের খারাপ ব্যাটিং গোটা মরসুমের ভাল পারফরম্যান্সে চোনা ফেলে দিল। জম্মু-কাশ্মীরের কাছে হেরে বিদায় নিল বাংলা। অন্য দিকে প্রথম বার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠল জম্মু-কাশ্মীর।
বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮৩ রান। হাতে ছিল ৮ উইকেট। এই পরিস্থিতিতে বাংলার জয়ের আশা খুব কম ছিল। কিন্তু ক্রিকেটে অসম্ভবও সম্ভব হয়। দিনের শুরুতে আকাশদীপ ২ উইকেট তুলে নেওয়ায় সেই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বংশরাজ শর্মা ও আব্দুল সামাদকে আউট করতে পারলেন না মহম্মদ শামিরা। এই দু’জন দলকে জয়ে নিয়ে গেলেন। বংশরাজ ৪৩ ও সামাদ ৩০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন।
প্রথম বার রঞ্জির ফাইনালে ওঠার পর জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের উল্লাস ছিল দেখার মতো। গত কয়েক মরসুমে এই দলের উত্থান স্বপ্নের মতো। সারা বছর সেখানে ক্লাব ক্রিকেট হয় না। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খেলেন তাঁরা। কিন্তু পারশ ডোগরার এই দল দেখিয়ে দিল, শক্ত প্রতিপক্ষকেও সহজে হারাতে পারে তারা।
আরও পড়ুন:
প্রথম ইনিংসে সুদীপ ঘরামির শতরানে ৩২৮ রান করেছিল বাংলা। জবাবে ৩০২ রান করেছিল জম্মু-কাশ্মীর। একাই ৮ উইকেট নিয়েছিলেন শামি। দলকে ২৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার একটি সেশনে খেলার রাশ হারিয়ে ফেলল বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই পর পর উইকেট হারালেন অভিমন্যু ঈশ্বরণেরা। প্রথম সারির কোনও ব্যাটারই চেনা পিচে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলেন না। ঈশ্বরণ (৫), সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (০), সুদীপ ঘরামি (০), অনুষ্টুপ মজুমদার (১২), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১৪), সুমন্ত গুপ্ত (৮), হাবিব গান্ধীরা (১০) মাঠে নেমেছেন এবং সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন। এমন বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা চেষ্টা করেন শাহবাজ় আহমেদ। ২৪ রান এসেছে অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। ৯৯ রানে অল আউট হয়ে যায় দল। জম্মু-কাশ্মীরের সামনে লক্ষ্য ছিল ১২৬ রান। ৪ উইকেট হারিয়ে রান তাড়া করে জিতে ফাইনালে গেল তারা।