হার্ট অ্যাটাক বলেকয়ে আসবে তা নয়। আচমকাই হানা দিতে পারে যখন-তখন। তবে রোজের কিছু অভ্যাসের কারণে কিন্তু অজান্তেই বাড়িয়ে দেয় হৃদ্রোগের ঝুঁকি। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, বাইরের তেল-মশলাদার খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসও দায়ী হৃদ্রোগের নেপথ্যে। হার্টের সমস্যা যাঁদের ধরা পড়েছে তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এই সব অভ্যাসে রাশ টানেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা একটি বড় ভুল করে বসেন। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে সকালবেলা, এটা অনেকেই জানেন না। তাই সকালের দিকে হার্টের রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকা ভীষণ জরুরি।
অ্যালার্ম বাজলেই ধড়মড় করে ওঠেন। তার পরই ছুটোছুটি শুরু হয়। বিছানা থেকে নেমেই বাথরুমে চলে যাওয়া, কোনও রকমে স্নান সেরেই জলখাবার খাওয়া, তার পর হুড়োহুড়ি করে অফিসের জন্য বেরিয়ে যাওয়া। এমন রুটিন যাঁরা দিনের পর দিন মেনে চলছেন, তাঁদের একটু সাবধানে থাকতে হবে বইকি। কারণ, সকালের দিকে অত্যধিক উত্তেজনা রক্তচাপ আচমকা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় এর ফলে স্বাভাবিক কারণেই রক্তচাপ ও হার্ট রেট বেড়ে যায়। সকালের দিকে প্লেটলেটের ঘনত্ব বেড়ে যায় বলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বাড়ে। এর প্রভাবে করোনারি আর্টারি ব্লক হওয়ার ঝুঁকিও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন হার্টের রোগীরা?
১) হৃদ্রোগ এড়াতে চাইলে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে খালি পেটে জল খান বেশি করে। সারা রাত শরীরে জলের ঘাটতি হয়, ফলে সকালের দিকে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যা হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার এটিও একটি কারণ। জল খাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিন।
২) সকালে উঠে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। হাঁটার পাশাপাশি হালকা জগিং কিংবা যোগাসনও করা যেতে পারে। এ ভাবে সকালটা শুরু করলে কিন্তু হার্ট ভালও থাকবে। সকালের দিকেই প্রাণায়াম বা শ্বাসের ব্যায়াম করাও খুব জরুরি। এতে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস ঢোকে ফুসফুসে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিও ঠিক থাকে।
৩) ঘুম থেকে উঠেই চায়ে চুমুক নয়। প্রোটিনে ভরপুর প্রাতরাশ করুন, তার পর চা-কফি খান।