ওভারিয়ান সিস্ট নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে ইদানীংকালে, কিন্তু ‘এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার’ নিয়ে অনেক মহিলাই ওয়াকিবহাল নন। তার লক্ষণও আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। ধরা যাক, ঋতুস্রাবের সময়ে প্রতি বারই দেখেন, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, ভারী রক্তপাত হচ্ছে। এমনকি ঋতুস্রাব অনিয়মিতও হয়ে যাচ্ছে। এ সব যে ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে, তা আর ক’জন ভাবেন! অনেক মহিলাই একে ওভারিয়ান সিস্টের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। অথচ রোগ দু’টি কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা।
এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার ও সার্ভিক্যাল ক্যানসারও কিন্তু এক নয়। এটিও বুঝতে হবে। সার্ভিক্যাল বা জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে এখন সচেতনতা অনেক বেশি। এর টিকাও চলে এসেছে। অথচ এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার নিয়ে ততটা প্রচার নেই। এটিও যথেষ্টই বিপজ্জক। দু’টিই মহিলাদের প্রজননতন্ত্রের রোগ। জরায়ুর ভিতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। ওই অংশের কোষগুলির অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হলে, তখন জরায়ুর আস্তরণের ভিতরে টিউমার তৈরি হয়। সেই টিউমার ক্যানসারে পরিবর্তিত হতে পারে। এটিই হল এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার। আর জরায়ুর নীচের অংশে ক্যানসার হলে তাকে বলে সার্ভিক্যাল ক্যানসার।
আরও পড়ুন:
এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের লক্ষণ চেনা খুব জরুরি
৪৫ থেকে ৫২ বছর পর্যন্ত মেনোপজ়াল এজ ধরা হয়। কোনও মহিলার ৪৫ বছর বয়সের পরে যদি ঋতুস্রাব এক বছর বন্ধ থাকে, তা হলে তাকে রজোনিবৃত্তি বলে ধরে নেওয়া হয়। রজোনিবৃত্তির পরেও যদি ঋতুস্রাবের মতোই রক্তপাত হতে থাকে, তা হলে সেটি স্বাভাবিক নয়। অনেকেই একে সিস্ট ভেবে বসেন, কিন্তু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। এমনটাই জানালেন স্ত্রীরোগ চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, ডিম্বাশয়ে সিস্ট হলে তলপেটে খুব ব্যথা হবে, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসবে, পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেবে। আর জরায়ুর ভিতরে ক্যানসার হলে কোমর, তলদেশ বা শ্রোণিচক্রে একটানা ব্যথা হতে থাকবে। অধিকাংশ মহিলাই ব্যথাটা অনুভব করেন কোমর ও নিতম্বের মধ্যবর্তী অঞ্চলে। পায়ের উপরের অংশেও ব্যথা হতে পারে। পরিবারে যদি ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, ওজন অতিরিক্ত হয়, হরমোনের থেরাপির জন্য ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খান, তা হলে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই ভাল।
কী কী পরীক্ষা করিয়ে নেবেন?
ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান চল্লিশের পরেই করিয়ে রাখা ভাল। জরায়ুর ভিতরের স্তরে কোনও টিউমার তৈরি হচ্ছে কি না, তা বোঝা যাবে আগে থেকেই।
এরই সঙ্গে হিস্টেরোস্কোপি পরীক্ষা করাতে হবে। এতে ছোট ক্যামেরা জরায়ুর ভিতরে ঢুকিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়।
এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসিও গুরুত্বপূর্ণ। পিসিওএস থাকলে বা ওজন খুব বেশি হলে এবং ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে গেলে এই পরীক্ষা করাতেই হবে।
আলট্রাসাউন্ড করে যদি দেখা যায়, যে ক্যানসার সত্যিই ছড়িয়ে পড়েছে অর্থাৎ, রোগী স্টেজ ২ বা স্টেজ ৩-এ আছেন, তখন ক্যানসার আর কোন কোন অঙ্গে ছড়িয়েছে তা জানতে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়। তার পর অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়।