Advertisement
E-Paper

চ্যাট ‘ফাঁস’ করলেন অভিষেক! অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে ভোটারদের নাম বাদের নির্দেশ পাঠাচ্ছে কমিশন

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আইনগত এবং জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৯
TMC leader Abhishk Banerjee attacked Election Commision

অভিষেকের নিশানায় নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মাইক্রো অবজ়ার্ভার দিয়েই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অন্দরের হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এনে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার এক্স হ্যান্ডলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন কি মনে করে যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যেতে পারে? তাঁর অভিযোগ, মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের নির্দেশ দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সেই অভিযোগের সপক্ষে নির্বাচন কমিশনের তরফে হোয়াট্‌সঅ্যাপে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের যে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, সেই নির্দেশের চ্যাটও ‘ফাঁস’ করে দিয়েছেন অভিষেক।

অভিষেকের অভিযোগ, আইনগত এবং জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে বিশেষ রোল অবজ়ারভার সি. মুরুগন মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নামের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। নিজের পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, ‘মাইক্রো অবজ়ারভারদের ভূমিকা সম্পর্কেও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, তাঁদের কাজ সহায়ক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাঁরা তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করবেন। কিন্তু কোনও প্রশাসনিক বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই। কিন্তু নির্বাচনী আধিকারিক তাঁদের দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ ক্ষেত্রে অভিষেকের প্রশ্ন, যদি আদালত স্পষ্ট ভাবে এই সীমারেখা টেনে দিয়ে থাকে, তাহলে কোন নির্দেশে এবং কার অনুমতিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের মাধ্যমে জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্দেশ জারি করা হচ্ছে? তাঁর আরও দাবি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সরকারি যোগাযোগ এবং নথির মাধ্যমে কাজকর্মের উপর জোর দিলেও বাস্তবে সেই নীতি মানা হচ্ছে না।

অভিষেকের অভিযোগ, রোল অবজ়ার্ভারদের জেলাভিত্তিক নিয়োগ করা হলেও তাঁদের লগইন শংসাপত্র কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় স্থান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, লগইন তথ্য অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘স্বাধীন ভাবে তদন্ত করা হলে লগইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন ও আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট রোল অবজ়ার্ভারের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলবে না।’ অভিষেক পোস্টে আরও লিখেছেন, নির্বাচন কমিশনের বৈধতা আসে জনবিশ্বাস থেকে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়। এই বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে উত্থাপন করা হবে।

অভিষেক যে স্ক্রিনশট গুলি ‘ফাঁস’ করেছেন তার উপরে লেখা রয়েছে, ‘ইআরএমও সাউ ২৪ পরগনা’। যা দেখে অনেকের অনুমান, এটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মাইক্রো-অবজ়ারভারদের গ্রুপ। সেখানে বিভিন্ন নির্দেশ লিখতে দেখা যাচ্ছে জনৈক ‘অবজ়ার্ভার চিমা মুরুগান’কে।

একই সঙ্গে দিল্লির ‘জমিদারদের’ ইশারায় কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বাংলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নাম না করে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকেই অভিযুক্ত করতে চেয়েছেন তিনি। অভিষেকের আনা এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে বুধবার দুপুরে তৃণমূলের পাঁচ জনের প্রতিনিধিদল অভিযোগ জানাতে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাচ্ছে।

West Bengal SIR SIR Election Commission CEO Micro Observer Abhishek Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy