প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকল কলকাতা নাইট রাইডার্স। গুজরাত টাইটান্সের পর এ বার ঘরের মাঠে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারাল তারা। আইপিএলে মুম্বই বরাবর কেকেআরের শক্ত গাঁট। মুখোমুখি সাক্ষাতে অনেকটা এগিয়ে মুম্বই। ফলে অজিঙ্ক রাহানেদের কাজটা সহজ ছিল না। কাজটা সহজ করে দিলেন বোলারেরা। মুম্বইকে ১৪৭ রানে আটকে রাখলেন তাঁরা। সেখানেই জয় অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলল কেকেআর। বাকি কাজটা করলেন ব্যাটারেরা। হার্দিক পাণ্ড্যদের ৪ উইকেটে হারাল কেকেআর।
এই ম্যাচের পর কেকেআরের পয়েন্ট ১৩ ম্যাচে ১৩। পয়েন্ট তালিকায় ছ’নম্বরে উঠেছে তারা। রবিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ দিল্লি ক্যাপিটালস। যদি তার আগে পঞ্জাব কিংস ও রাজস্থান রয়্যালস পয়েন্ট নষ্ট করে তা হলে প্লে-অফে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ চলে আসবে রাহানেদের সামনে। সে ক্ষেত্রে শুধু দিল্লিকে হারালেই প্লে-অফে উঠে যাবেন তাঁরা। শেষ সাত ম্যাচের মধ্যে ছ’টি জিতল কেকেআর। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন রাহানেরা।
খেলা শুরুর আগে বৃষ্টির কারণে পিচ কিছু ক্ষণ ঢাকা থাকায় শুরুতে ব্যাট করতে যে সমস্যা হবে তা নিশ্চিত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে চোখ বন্ধ করে বল করার সিদ্ধান্ত নেন রাহানে। সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগে। ইডেনে সাধারণত যে ধরনের পাটা উইকেট দেখা যায়, এই ম্যাচের পিচ তেমনটা ছিল না। পিচে বোলারদের জন্যও সুবিধা ছিল। বিশেষ করে গতির হেরফের করলে ব্যাটারদের খেলতে সমস্যা হচ্ছিল।
সেই সুবিধা কাজে লাগান কেকেআরের বোলারেরা। তৃতীয় ওভারে মুম্বইকে প্রথম ধাক্কা দেন ক্যামেরন গ্রিন। তাঁর বল মারতে গিয়ে ৬ রানের মাথায় আউট হন রায়ান রিকেলটন। ভাল ক্যাচ ধরেন মণীশ পাণ্ডে। তিন বল পরেই নমন ধীরকে শূন্য রানে আউট করেন গ্রিন। এক ওভারে জোড়া ধাক্কা খায় মুম্বই।
রোহিত শর্মা দু’টি ছক্কা মারলেও বেশি ডট বল খেলছিলেন। ফলে চাপ বাড়ছিল তাঁর উপর। বাধ্য হয়ে সৌরভ দুবের বলে বড় শট মারতে গিয়ে ১৫ রানের মাথায় আউট হন তিনি। অনেকটা দৌড়ে ভাল ক্যাচ ধরেন গ্রিন। সূর্যকুমার যাদব চার নম্বরে নেমে বল নষ্ট করেননি। বড় শট খেলা শুরু করেন। কিন্তু মাত্র ছ’বল ক্রিজ়ে ছিলেন তিনি। সৌরভের বলে ১৫ রানের মাথায় বোল্ড হন তিনি। পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ৪১ রানে চার উইকেট পড়ে যায় মুম্বইয়ের।
মাঝে বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। কিন্তু বেশি বৃষ্টি না হওয়ায় ওভার নষ্ট হয়নি। দ্বিতীয় বার খেলা শুরু হওয়ার পর কেকেআরের দুই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারাইনের বলে রান করতে সমস্যা হচ্ছিল মুম্বইয়ের। বরুণের বলে ক্যাচও তোলেন তিলক বর্মা। বরুণ ক্যাচ প্রায় ধরে ফেলেছিলেন। কিন্তু উইকেটরক্ষক অঙ্গকৃশ রঘুবংশী অকারণে বেশ খানিকটা দৌড়ে সেই ক্যাচ ধরতে যান। তিনি গিয়ে বরুণকে ধাক্কা মারেন। ফলে তাঁর হাত থেকে বল বেরিয়ে যায়।
সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি তিলক। মন্থর ইনিংস খেলেন তিনি। অবশেষে কার্তিক ত্যাগীর বলে আউট হন তিলক। ৩২ বলে ২০ রান করেন তিলক। ২৬ রান করে নারাইনের বলে আউট হন হার্দিক। আরও একটি ম্যাচে দুর্দান্ত বল করলেন নারাইন। চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি।
রান করতে সমস্যা হচ্ছিল মুম্বইয়ের। শেষ দিকে কয়েকটি বড় শট মারেন উইল জ্যাকস। ঠিক যখন দেখে মনে হচ্ছে তিনি কিছু রান করবেন, তখনই অকারণে দু’রান নিতে গিয়ে রান আউট হন জ্যাকস। ১৪ রান করেন তিনি। তার পর দেখে মনে হচ্ছিল, ১২০ রান করতে সমস্যা হবে মুম্বইয়ের। কিন্তু তখনও কর্বিন বশ ছিলেন ক্রিজ়ে। শেষ দিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ ওভারে ত্যাগীর বলে ১৯ রান নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান করে মুম্বই। ১৮ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন বশ। মুম্বইকে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে যান তিনি। গ্রিন, সৌরভ ও ত্যাগী ২ করে উইকেট নেন। বরুণ উইকেট না পেলেও খারাপ বল করেননি।
আরও পড়ুন:
১৪৮ রান খুব বেশি না হলেও মুম্বইয়ের ব্যাটিং দেখে বোঝা গিয়েছিল, এই পিচে ঝোড়ো ব্যাটিং সহজ নয়। কিন্তু ফিন অ্যালেন একটাই গিয়ারে খেলতে জানেন। প্রথম ওভারেই দীপক চহারের বলে দু’টি চার মারেন তিনি। কিন্তু ওভারের শেষ বলে জোরে ব্যাট ঘোরাতে গিয়ে বোল্ড হন অ্যালেন। ৮ রান করেন তিনি। রানের মধ্যে থাকা ব্যাটার প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন।
ফিল্ডিং করার সময় মাথায় লাগায় অঙ্গকৃশ রঘুবংশী তিন নম্বরে নামেননি। বদলে নামানো হয় মণীশকে। অধিনায়ক রাহানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। চহার, জসপ্রীত বুমরাহদের বল সামলে খেললেও পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে আউট হন রাহানে। ২১ রানের মাথায় বশের বলে আউট হন তিনি। বল হাতে ও ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়লেও ব্যাট হাতে দিনটা ভাল যায়নি গ্রিনের। ৪ রানের মাথায় বশের বলেই ফেরেন তিনি।
মণীশ শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও ধীরে ধীরে রান করা শুরু করেন। পাঁচ নম্বরে নেমে রভম্যান পাওয়েল আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। ঠিক তখনই ক্যাচ ধরতে গিয়ে একটি বড় ভুল করে মুম্বই। হার্দিকের বলে ক্যাচ তোলেন পাওয়েল। চহারের দিকে বল যাচ্ছিল। কাছেই ছিলেন আর এক ফিল্ডার রবিন মিঞ্জ। দু’জনেই ভাবেন অপর জন ক্যাচ ধরবেন। তাই কেউ ক্যাচ ধরতে যাননি। বল তাঁদের মাঝে পড়ে। সেই ভুল কাজে লাগায় কেকেআর। পর পর কয়েকটি বড় শট মারেন মণীশ ও পাওয়েল।
লক্ষ্য বড় না হওয়ায় কেকেআরের উপর চাপ কম ছিল। দৌড়ে রানের উপরেই নির্ভর করছিলেন দুই ব্যাটার। মাঝেমধ্যে খারাপ বল পেলে বড় শট মারছিলেন। মুম্বই জানত, উইকেট তুলতে না পারলে ম্যাচ জেতা যাবে না। হাতের সব তাস খেলে ফেলেন হার্দিক। কিন্তু উইকেট আসছিল না। মণীশ ও রভম্যান দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন। খুব একটা ঝুঁকি নিচ্ছিলেন না তাঁরা।
শেষ ৪৮ বলে কেকেআরের জিততে দরকার ছিল ৫১ রান। মণীশ ও পাওয়েল সেই কাজটা আরও সহজ করলেন। ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে শট মারলেন তাঁরা। বিশেষ করে স্পিনারদের সামনে দুর্দান্ত ব্যাট করলেন দু’জনে। কেকেআরের স্পিনারদের সামনে কিন্তু সমস্যায় পড়েছিলেন মুম্বইয়ের ব্যাটারেরা। সেখানেই বাজিমাত করল কেকেআর।
যত সময় গড়াচ্ছিল, তত কেকেআরের জয় স্পষ্ট হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে বুমরাহের হাতে বল তুলে দেন হার্দিক। বুমরাহ নিরাশ করেননি। মণীশকে বোল্ড করেন তিনি। ভাঙে ৬৪ রানের জুটি। ৩৩ বলে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মণীশ।
শেষ ৩০ বলে কেকেআরের জিততে দরকার ছিল ৩০ রান। পাওয়েলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রিঙ্কু সিংহ। আল্লা গজ়নফরের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন পাওয়েল। পরের বলে পয়েন্ট অঞ্চলে সজোরে শট মেরেছিলেন তিনি। শূন্যে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন বশ। মুম্বই হারলেও বশের দিনটা ভাল গেল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, সব দিকে নজর কাড়লেন তিনি। ৩০ বলে ৪০ রান করে আউট হন পাওয়েল।
শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট পড়লেও লক্ষ্য কম থাকায় কেকেআর চাপে পড়েনি। রিঙ্কু ও অনুকূল রায় দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৭ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতে কেকেআর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
- এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
- আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
-
১৯:৪০
নেওয়া হয় না পরামর্শ, জানানো হয় না কোনও সিদ্ধান্ত! চেন্নাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে ধোনির, চলতি মরসুমের পরই ছিন্ন হতে পারে সম্পর্ক -
সরাসরি
১৯:০১
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয় কেকেআরের, পয়েন্ট তালিকায় ছয়ে উঠে প্লেঅফের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন রাহানেরা -
১৪:১৮
লখনউকে হারিয়ে তাদেরই মালিক গোয়েন্কাকে প্রণাম বৈভবের, বিশেষ উচ্ছ্বাসের কারণ জানাল সূর্যবংশী, ভাঙল তিন নজির -
১১:৫৪
মানসিক রোগে ভুগছিলেন বিরাট, কী হয়েছিল, কেন অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন, জানালেন কোহলি -
১০:০৯
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জিততেই হবে, রাহানেদের চিন্তা একাধিক বোলারের চোট, বুধবার ইডেনে কেকেআরের প্রথম একাদশে একটি বদল নিশ্চিত