Advertisement
E-Paper

বসন্তের শুরুতে হানা দেয় মাম্পস, সংক্রমণে ফুলে যায় গাল-গলা, কী ভাবে ছোটদের সাবধানে রাখবেন?

হাম, পক্স, রুবেলার মতোই বিপজ্জনক মাম্পস ভাইরাস। শীতের শেষ ও বসন্তের শুরুতে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। প্রতি বছরই শহর ও জেলার নানা জায়গায় মাম্পসের সংক্রমণের কথা শোনা যায়। শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয় এই রোগে। তাই অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া জরুরি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪
Why Mumps Rises in Spring, what are the symptoms and prevention tips

মাম্পস কী, কেমন লক্ষণ দেখা দেয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শীতের শেষ ও বসন্তের শুরু থেকেই সক্রিয় হতে শুরু করে মাম্পস ভাইরাস। হাম বা চিকেন পক্সের মতো মাম্পস নিয়ে সচেতনতা কম। অথচ রোগটি খুবই ছোঁয়াচে। আক্রান্তের হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময়ে মুখ থেকে বেরোনো থুতু থেকে দ্রুত ভাইরাস ছড়াতে পারে। ছোটরাই বেশি আক্রান্ত হয় এই রোগে। আবহাওয়ার তারতম্য যত বেশি হবে, ততই এই ভাইরাসের উপদ্রব বাড়বে। তাই সতর্ক হওয়া জরুরি।

মাম্পসের কী কী লক্ষণ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

মাম্পসের টিকা যদি না নেওয়া থাকে, তা হলে রোগটি ছড়াতে পারে। তবে দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মাম্পসের ভাইরাস তার রূপ বদলাচ্ছে। আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে। এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে সবচেয়ে আগে লালাগ্রন্থিকে আক্রমণ করে। ফলে মুখ, চোয়াল, গাল ও গলার অংশ ফুলে যায়। তীব্র জ্বর আসে, সঙ্গে মাথায় যন্ত্রণা, বমি এবং কিছু ক্ষেত্রে খিঁচুনিও দেখা দেয়। ফলে খাবার খেতে সমস্যা হয়, কিছু খেলেই বমি হয়ে যায়। এই বিষয়ে সংক্রামক রোগ বিষয়ক চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, মাম্পস হলে যে কেবল গলা ফুলবে বা জ্বর আসবে তা নয়, অনেক শিশুই মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়। এতে মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয়। মাথাঘোরা, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পেশির মারাত্মক খিঁচুনি হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাম্পস ভাইরাস অগ্ন্যাশয়ে গিয়েও বাসা বাঁধে। ফলে হজমে সমস্যা, বমি, প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো রোগ হতেও দেখা যায়।

সাবধানে থাকবেন কী ভাবে?

মাম্পস ভাইরাসের সংক্রমণ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক হবে না। তাই জ্বর, গলা ফুলে যাওয়া, পেশির খিঁচুনি শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

মাম্পসের তেমন নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই, তবে টিকা আছে। একসঙ্গে মাম্পস-হাম-রুবেলার টিকা বা এমএমআর টিকা নিয়ে রাখলে ঝুঁকি কমবে। শিশুর ন’মাস বয়সে প্রথম দেওয়া হয় এই টিকা। পরে দেড় বছর ও পাঁচ বছরে দেওয়া হয় আরও দু’টি বুস্টার ডোজ়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, টিকা নিয়ে রাখলেও বুস্টার ডোজ় নিতেই হবে। না নেওয়া থাকলে, বুস্টার ডোজ় নিয়ে নিতে হবে।

মাম্পস হলে শিশুকে আলাদা রাখতেই হবে, বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা জরুরি।

খাওয়াদাওয়ায় নজর দিতে হবে। জল ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে শিশুকে। দুধ, ফলের রস, পাতলা খিচুড়ির মতো তরল ও নরম খাবার খাওয়াতে হবে।

বাইরের কোনও খাবার খাওয়া যাবে না। নিজের ইচ্ছামতো বা ইন্টারনেট খুঁজে ওষুধ খেলে বিপদ বাড়বে।

Mumps Outbreak
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy