Advertisement
E-Paper

‘চড়-থাপ্পড়ের দিন গিয়েছে’, টিভি তারকা হিতেন কী ভাবে সন্তান সামলান? শাসন কি তবে বাদ?

বকাবকি, মারধর নয় বরং সন্তানকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেওয়াই জরুরি। হিন্দি সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ হিতেন তেজওয়ানি। নতুন প্রজন্মকে সামালাতে কেমন হওয়া উচিত অভিভাবকত্বের ধরন, মনোবিদেরা কী বলেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৯
সন্তানদের কী ভাবে পালন করেন অভিনেতা হীতেন তেজওয়ানি?

সন্তানদের কী ভাবে পালন করেন অভিনেতা হীতেন তেজওয়ানি? ছবি: সংগৃহীত।

ছেলে-মেয়ে দুষ্টুমি করেছে? কোনও কথা শোনার বালাই নেই, সোজা চড়-থাপ্পড় কিংবা বেলন দিয়ে মার। বিশেষত অবাধ্য সন্তানকে শাসনের এমনই পন্থা চলে আসছে বছরের পর বছর। আগের প্রজন্মেও সন্তান পালনে মারধর ছিল খুব স্বাভাবিক বিষয়। তবে এখন আর সে সব চলে না, বলছেন হিন্দি টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেতা হিতেন তেজওয়ানি। ওয়েব সিরিজ়ের মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। হিতেন এবং তাঁর স্ত্রী গৌরী দু’জনেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত, ব্যস্ত। যমজ সন্তানদের সামলানো নিয়েই এ বার কথা বললেন হিতেন।

বাবা হিসাবে তিনি মোটেই রাগী বা বদমেজাজি নন। বরং হিতেন বিশ্বাস করেন, ছোটবেলায় শাসনের নামে যে ভাবে চড়-থাপ্পড় মারা হত, মায়েরা বেলন দিয়ে পেটাতেন, সেই সব এখন করা চলে না। বরং নতুন প্রজন্ম একেবারেই আলাদা। তাদের বুঝতে হলে, তাদের অভিভাবক হয়ে উঠতে গেলে তাদের কথা শোনা, বোঝার চেষ্টা, তাদের নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দেওয়াও জরুরি।

হিতেন যে অভিভাবকত্বের কথা বলছেন, সেই ভাবে কি তরুণ প্রজন্ম বা নতুন প্রজন্মকে সামলানো সম্ভব? না কি জেদি হয়ে ওঠা, বেপরোয়া সন্তানদের সঠিক পথে চালনা করতে শাসনেরও প্রয়োজন আছে? মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপ ভাবতে বলছেন, ‘‘শাসনের নামে বকা, মারধর করলে কি সত্যি সন্তানের আচরণ পাল্টায় বা পাল্টাবে? এগুলি করার উদ্দেশ্যই তো সন্তানকে ভুল নিয়ে সচেতন করা বা ঠিকটা বোঝানো। তা কি আদৌ হয় এই ভাবে? বরং অনেক সময় অভিভাবকদের কঠোর মানসিকতাই তাদের আরও বেশি বেপরোয়া, জেদি করে তুলতে পারে। আবার কোনও শিশু নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে, মারধরের ভয়ে তার বিকাশ থমকে যেতে পারে।’’

তা হলে কি শাসন বাদ?

শাসন যে পুরোপুরি বাদ, তেমনটা বলছেন না মোহিত। তাঁর পরামর্শ, শাসনের ধরন বদলানো যেতে পারে। সন্তানকে বোঝানোর চেয়েও জরুরি তাকে বোঝা। বিভিন্ন বয়সের শিশুর আচরণ নানা রকম হয়। কেন সে সেই আচরণ বারণ করার পরেও করছে, তা বোঝা দরকার। নিজে বুঝলে, বোঝানো বা সমাধান পাওয়া সহজ হয়। আবার শিশু যদি বদমেজাজি হয়, কথা না শুনতে চায়, তেমন ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অধিকার থাকবে তার কথা না শোনার। মারধর, বকাবকির বদলে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে এক দিন বা দু’দিন অভিভাবক তার সঙ্গে কথা বন্ধ করে দেখতে পারেন।

শিশুর আচরণ পরিবর্তনই যদি লক্ষ্য হয়, তাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো যেতে পারে কোন আচরণের ফল কেমন। যদি দেখা যায় সে নিয়মিত পরীক্ষার ফল খারাপ করছে, স্কুলের কাজ করছে না, প্রথমে জানা দরকার পড়া বুঝতে বা পড়তে অসুবিধা হচ্ছে কি না। যদি দেখা যায়, পড়তে না বসা নিছক দুষ্টুমি, তা হলে স্কুলেও তো তাকে তার কাজের জন্য শাস্তি পেতে হবে। সেটা তাকেই বুঝতে দিন। সন্তানের ভুলকে সমর্থন না করলে, এক সময় সে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারবে।

Hiten Tejwani Parenting Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy