বাড়িতে যখন ‘আদরিনী’ এসেছিল, তখন মোটে ২ মাস। এখন তার বয়স ১ বছর। ছোট্ট চারপেয়ে সাদা তুলোর বলের মতো মার্জারশাবক এখন সকলের নয়নের মণি আদরিনী। কিন্তু হঠাৎ করেই তার লোমগুলি খসতে শুরু করে। শুরু হয় অস্বস্তি। তার পর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানা যায়, অ্যালার্জি হয়েছে তার। চিকিৎসার প্রয়োজন।
পোষ্য শুধু বাড়িতে থাকলেই হয় না, তার আচরণ, রোগ-লক্ষণগুলিও অভিভাবকে বুঝতে হয়। জানা না থাকলে ছোটখাটো উপসর্গ অভিভাবকের নজর এড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণ বলে এড়িয়ে গেলে, তা থেকেই সমস্যা হতে পারে। সময়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া না হলে পোষ্যের প্রাণহানিও অসম্ভব নয়।
বাড়িতে বিড়াল পুষলে, কোন অসুখ নিয়ে সতর্ক হবেন, ঋতু বদলের সময় কোন সমস্যা বাড়তে পারে?
শ্বাসকষ্ট: আচমকা ঠান্ডা পড়া বা ঠান্ডা কমে যাওয়ার সময়ে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে বিড়ালের। শ্বাসকষ্ট, কাশি, সর্দির মতো লক্ষণগুলি বেশি দিন চললে, দ্রুত সতর্ক হওয়া দরকার।
অ্যালার্জি: দিনভর যদি দেখা যায় বিড়াল গা চাটছে, লোম খসছে তা হলে সতর্ক হতে হবে। অ্যালার্জি হলে শরীর চুলকায়, লোম খসে যেতে পারে। কখনও কখনও হজমেও সমস্যা হয়।
জলশূন্যতা: শীতের মরসুম শেষ হয়ে বসন্ত শুরু হলেই পরিবেশে বদল হতে থাকে। আচমকা গরম পড়লেও, পোষ্যের জলের প্রয়োজন বাড়ে। বিড়াল চট করে জল খেতে চায় না। ফলে, জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
পরজীবী: এঁটুলি-সহ নানা রকম পরজীবী বাসা বাঁধতে পারে বিড়ালের লোমে। এমনটা হলে তাদের গা চুলকায়, সমস্যা হয়।
পশুরোগ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঋতুবদলের সময়ে অ্যালার্জি নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। ধুলো, মাছি, ফুলের রেণু, ছত্রাক-সহ নানা জিনিস থেকে তাদের অ্যালার্জি হতে পারে। শ্বাসের মাধ্যমে বাতাসের সূক্ষ্ম ধূলিকণা শরীরে প্রবেশ করে। তা থেকেও সমস্যা দেখা দেয়।
উপসর্গ
অ্যালার্জি হলে লোম ঝরতে পারে, গা চুলকায়, কানে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। চামড়া একটু শক্ত হয়ে লালচে-হলুদ ক্ষতর সৃষ্টি হয়। একে বলে ইওসিনোফিলিক প্লাক। এই অবস্থায় ক্ষতস্থানটি বিড়াল বার বার চাটলে সমস্যা বাড়তে পারে।
বিড়াল বেশি করে গা চাটলে, আচমতা খেতে না চাইলে, ঠিকমতো না ঘুমালে, দৈনন্দিন আচরণে বিশেষ বদল এলে, দেরি না করে পশুরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। পোষ্য যেহেতু মুখে কিছু বলতে পারে না বা তার ভাষা চট করে অভিভাবক বুঝতে পারে না, তাই চিকিৎসকই পরীক্ষা করে সঠিক ওষুধ দিতে পারেন।