গরম পড়া শুরু হওয়া মানেই মন আইসক্রিমের জন্য নেচে ওঠা। ছোটদের প্রিয় তো বটেই, ঠা-ঠা দুপুরে শরীর-মন ঠান্ডা করতে বড়রাও আইসক্রিম বেছে নেন। খেতে স্বাদু, তার উপর বরফ শীতল ছোঁয়া যেন নিমেষে স্বস্তি দেয়।
কিন্তু গরমের দিনে ঠান্ডা আইসক্রিম কি সত্যি শরীর ঠান্ডা করে, না কি, তা জলশূন্যতারও কারণ হতে পারে? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খাবারটি ঠান্ডা হলেও, তা শরীরে জলের তেষ্টা বাড়িয়ে দেয় এবং পর্যাপ্ত জল না খেলে তা জলশূন্যতার সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, আইসক্রিম খাওয়ার খানিক পর থেকেই জল তেষ্টা পেতে শুরু করে। জিভ শুকিয়ে যায়। চিকিৎসকদের কথায়, আইসক্রিমের মূল উপকরণ হল চিনি, এ ছাড়া থাকে ফ্যাট এবং খুব সামান্য সোডিয়াম। এই তিনের যোগফলেই ক্রমাগত জল তেষ্টা পেতে শুরু করে।
কেন আইসক্রিম খেলে জল তেষ্টা পায়?
আইসক্রিমে বেশি মাত্রায় চিনি থাকায়, তা খাওয়ার পরেই রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে শরীর কোষ থেকে জল বার করে রক্তে মিশিয়ে দেয়, যাতে শর্করা পাতলা হয়ে যায়। পরিপাক সহজ হয়, তা থেকে শক্তি উৎপাদন করা যায়।ঠিক সেই কারণেই জলের ঘাটতি দূর করত জল তেষ্টাও পায়।
আরও পড়ুন:
শুধু আইসক্রিম নয়, চিনি যুক্ত যে কোনও খাবার খেলেই জলের তেষ্টা বেড়ে যায়। যত বেশি চিনি ততই জলের তেষ্টা বাড়ে। চিনির সঙ্গে দোসর হয়ে ওঠে ফ্যাট এবং স্বল্প সোডিয়াম। ফ্যাট পরিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে খাবারটি দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকে। হজমের জন্যই বাড়তি জলেরও দরকার হয়। যার ফলে, শরীরে জলের চাহিদা বেড়ে যায়। স্বাদের জন্য আইসক্রিমে খুব সামান্য নুন যোগ করা হয়। চিনির মতো নুনের মাত্রা ঠিক রাখতেও, শরীর তা পাতলা করে দিতে চায় বলে জলের দরকার হয়।
আইসক্রিমের উপকরণের জন্যই তা খাওয়ার পরে গলা-জিভ শুকিয়ে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই তাই এই খাবার ঠান্ডা হলেও শরীর ঠান্ডা রাখে না। বরং আইসক্রিম খেয়ে ঠিকমতো জল না খেলে, উল্টে জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে।
ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ে কেন?
ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স, প্রি-ডায়াবেটিক, বা ডায়াবেটিকদের সমস্যা আরও বাড়ে, তার কারণ, এঁদের শরীর শর্করা পরিপাকের জন্য কার্যকর ইনসুলিন হরমোনটি সঠিক ভাবে কাজ করে না। ফলে আইসক্রিম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হু-হু করে বেড়ে যায়। আর তা সামাল দেওয়ার জন্যই বাড়তি জলের প্রয়োজন পড়ে।
তবে চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, এতে বিশেষ চিন্তার কিছু নেই। আইসক্রিম বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার পর জলতেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ধরনের সমস্যা নিয়মিত হলে বা একটু বেশি মাত্রায় হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।