মার্চ গড়াতেই চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। দুপুরের রোদে বাইরে বেরোলেই গলা শুকিয়ে কাঠ। এই অবস্থায় শরীর ঠান্ডা রাখতে রাস্তার ধারের আখের রস, বাড়ির তৈরি দইয়ের ঘোল কিংবা তরমুজের শরবতে চুমুক দিতে ভালই লাগবে। কিন্তু পুষ্টিগুণ আর স্বস্তির বিচারে কোন পানীয়টি এই মরসুমের জন্য আদর্শ? দেখে নেওয়া যাক।
১. আখের রস: শক্তিবর্ধক
আখের রস প্রাকৃতিক গ্লুকোজে ভরপুর পানীয়। রোদে ঘোরাঘুরির পর শরীর যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন এক গ্লাস আখের রস নিমেষেই এনার্জি ফিরিয়ে দিতে পারে। লিভারের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। আবার শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। তবে যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন বা যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাঁদের জন্য আখের রস নিয়মিত না খাওয়াই ভালো। রাস্তাঘাটে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি আখের রস থেকে সংক্রমণের ভয়ও থেকে যায়।
২. দইয়ের ঘোল: পেটের বন্ধু
টক দইয়ের ঘোলে সামান্য গন্ধরাজ লেবুর রস দিয়ে খেলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ পানীয় বাঙালির চিরকালীন পছন্দ। আর স্বাস্থ্যকরও। এতে থাকা প্রোবায়োটিক গরমে হজমের সমস্যা মেটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ঘোল শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় নুন ও ভিটামিনের ঘাটতি মেটায়। যাঁদের ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স নেই, তাঁদের জন্য দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস নুন-লেবু মেশানো ঘোল অমৃতের মতো। এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
৩. তরমুজের শরবত: আর্দ্রতার জন্য সেরা
তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশ জল থাকে, যা গ্রীষ্মে শরীরকে ডিহাইড্রেট হতে দেয় না। এতে থাকা ‘লাইকোপেন’ নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে। হালকা মিষ্টি আর প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। শরীরকে চটজলদি সতেজ করতে এর জুড়ি নেই।
কোনটি বেছে নেবেন?
প্রতিটি পানীয়েরই নিজস্ব গুণ রয়েছে। যদি তাৎক্ষণিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তবে আখের রস সেরা। হজম ও পেটের স্বস্তির জন্য দইয়ের ঘোলের কোনও জুড়ি নেই। আর শরীরকে দীর্ঘ ক্ষণ আর্দ্র রাখতে হলে তরমুজের শরবত খেতে পারেন। তবে শাঁস ছাড়া খাবেন না। শাঁস সমেত তরমুজের শরবত অথবা কেবল ফলটিই খেলে উপকার বেশি। ছাঁকা রস খেলে শরীরে চিনির মাত্রা বাড়তে পারে।
যা মনে রাখবেন
বাইরে যেখানে সেখানে বরফ মেশানো ফলের রস বা ঘোল খাওয়ার চেয়ে বাড়িতে তৈরি টাটকা পানীয় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।