আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটে। শুরু হয়েছে বলের সমস্যা। বিশেষ করে ডিউক বলের জোগান কমে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে। পাকিস্তানে বল তৈরি হলেও ইংল্যান্ডে তা পৌঁছোচ্ছে না।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এখনই ব্যবস্থা না করতে পারলে সমস্যা আরও বাড়বে। ডিউক বল তৈরি করে ‘ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেড’ নামের এক সংস্থা। সেই সংস্থার মালিক দিলীপ জাজোদিয়া।
ডিউক বল মূলত তৈরি হয় পাকিস্তানে। ভারতেও কারখানা রয়েছে। তার পর তা ইংল্যান্ডে যায়। এই যাত্রাপথের অনেকটাই পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে দিয়ে। যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশের আকাশপথ বন্ধ। বিমানবন্দরও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ডেলি মেলকে জাজোদিয়া বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বড় সঙ্কটে পড়ে গিয়েছি।”
বেড়ে গিয়েছে পরিবহণ খরচ
আগে যা বল তৈরি হত, তার সংখ্যা কমেনি। কিন্তু সেই বল পৌঁছোচ্ছে না। পরিবহণের খরচও বেড়ে গিয়েছে। জাজোদিয়া বলেন, “ক্লাবগুলোকে মরসুমের শুরুতেই ৫০ শতাংশ বল আমরা পৌঁছে দিই। পরে ধীরে ধীরে বাকিটা দেওয়া হয়। উপমহাদেশে বল তৈরি রয়েছে। কিন্তু বিমানে করে তা আনা যাচ্ছে না। দামও বেড়ে গিয়েছে।”
কতটা দাম বেড়েছে সে কথাও জানিয়েছেন জাজোদিয়া। তিনি বলেন, “আগে ১২০টা বলের একটা বাক্স বিমানে নিয়ে যেতে কিলো প্রতি খরচ হত প্রায় ৫০০ টাকা। সেটাই এখন বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪০০ টাকা। বেশির ভাগ বলই পশ্চিম এশিয়া দিয়ে যায়। তাই এই সমস্যা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
বিকল্প পথ
বিকল্প একটি পথ অবশ্য রয়েছে। তাতে মালের পরিবহণে বেশি সমস্যা হবে না। কিন্তু খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। সেই বিকল্প পথ শ্রীলঙ্কার পাশ দিয়ে। জাজোদিয়া বলেন, “শুনেছি পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কার পাশ দিয়ে একটা বিকল্প পথ রয়েছে। কিন্তু তাতে খরচ আরও বেড়ে যাবে। চার্টার্ড বিমানে করে বল আনাতে হবে। এতে খরচ অনেকটাই বাড়বে।”
এই পরিস্থিতিতে বলের সঙ্কট যাতে খুব বেশি না হয় তার জন্য প্রতিটি কাউন্টিকে বল মজুত করার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। গত বছরও এই সমস্যা হয়েছিল। এ বার যাতে সেটা না হয় তার জন্য আগে থেকেই কাউন্টিগুলিকে এই নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। তার মধ্যেই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।