আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসে নানা রকম অনিয়ম ও বাড়তি কাজের চাপ— শরীরে ডেকে আনে নানা রোগব্যাধি। যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছি আমরা, ততই অসুখ দানা বাঁধছে শরীরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সমীক্ষা অনুযায়ী, ওবেসিটি, কোলেস্টেরল, থাইরয়েডের মতো সমস্যা বাড়ছে বিশ্ব জুড়ে। আর সেই সব রোগের হাত ধরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও। হৃদ্রোগ ধরা পড়লে জীবনে চলে আসে নানা বিধিনিষেধ। রোজের রুটিনের অনেক ভুল অজান্তেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়াই ভাল। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে বা বাড়িতে কোনও হৃদ্রোগী থাকলে হেঁশেলে কিছু বদল করে ফেলা জরুরি। জেনে নিন, সুস্থ থাকতে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে রান্নাঘরে।
১) তেল বদল: রান্নাঘরে তেল থাকবে না তাই আবার হয় নাকি! তবে কোন তেল দিয়ে রান্না করছেন, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হৃদ্রোগের ঝুঁকি এড়াতে সেই তেলেই রান্না করতে হবে, যাতে আনস্যাচুরেডেট ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। তাই হৃদ্রোগ ঠেকাতে রান্নাঘরে ঘি, মাখন, বনস্পতি বা পাম অয়েলের বদলে সর্ষের তেল, অলিভ তেল, বাদাম তেল রাখুন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই তেলগুলি ব্যবহার করতে পারেন। হার্ট ভাল রাখতে চাইলে এক জন সুস্থ পুরুষ রোজের রান্নায় ৪-৫ চা চামচ আর এক জন সুস্থ মহিলা ৩-৪ চা চামচ তেল খেতে পারেন। ওইটুকু তেল খেতেই হবে। কারণ, শরীরের জন্য ওইটুকু তেল প্রয়োজন।
২) নুন কম: নুনের পরিমাণ সঠিক না হলে রান্নার স্বাদ বিগড়ে যায়। হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নুন খেতে হবে পরিমিত মাত্রায়। রান্নায় নুন কমিয়ে দিলে সঠিক স্বাদ পাবেন না। নুনের অভাব মেটাতে সেই রান্নায় রকমারি হার্বস, রসুন, ধনেপাতা, লেবু, ভাজামশলার মতো উপকরণ মেশাতে হবে। এতে রান্নার স্বাদও বাড়বে আর নুন যে কম ব্যবহার করেছেন, সেটা বোঝাও যাবে না।
৩) দানাশস্য বৃদ্ধি: গোটাশস্য বা দানাশস্য প্রাকৃতিক ভাবেই ফাইবার এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ, যা বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সারা দিন ধরে শরীর চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। রোজের ডায়েটে বেশি করে দানাশস্য রাখলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরেলের মাত্রা কমে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে আর ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর। তাই রান্নাঘরে সাধারণ চালের বদলে ব্রাউন রাইস আর মিলেট রাখা শুরু করতে পারেন। ময়দার বদলে আটা, রাগি, জোয়ার, বাজরার মতো বিকল্পগুলিকে বেশি গুরুত্ব দিন।
৪) ভাজাভুজি বন্ধ করুন: যে খাবারে হার্টের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় তা হল ভাজাভুজি। তাই ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। মুখরোচক খাবার বানাতে হলে গ্রিলিং, স্টিমিং, রোস্টিং, এয়ার ফ্রায়িং করুন।
৫) প্যাকেটবন্দি আর প্রক্রিয়াজাত খাবার বন্ধ করুন: এই সব খাবারে অত্যধিক মাত্রায় ট্রান্সফ্যাট থাকে, যা হৃদ্যন্ত্রের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তাই হেঁশেল আর ফ্রিজে এই সব খাবার রাখা বন্ধ করতে হবে। এর বদলে বাদাম, বীজ, ফল, শাকসব্জি বেশি করে রাখুন।