প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে ভাঙড় থানায় এফআইআর দায়েরের আবেদন করলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা কাইজ়ার আহমেদ। ইমেল মারফত থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি। তাঁর আঙুল ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড় তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার দিকে। অভিযোগে কাইজ়ারের দাবি, শওকত তাঁকে খুন করার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ২০২৩–এর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৭৩ ধারায় এফআইআর দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে কাইজ়ার অবিলম্বে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং নিজের ও পরিবারের জন্য পুলিশি নিরাপত্তার দাবি করেছেন। যদিও শওকতের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
শওকত এবং কাইজ়ারের ‘দ্বন্দ্ব’ পুরনো। ২০২৩ সালের মার্চে শওকতকে ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সে সময় তা মানতে অস্বীকার করেছিলেন কাইজ়ার। তিনি দাবি করেছিলেন, ভাঙড়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয় শওকতকে। ‘অবজ়ারভার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন কাইজ়ার। শওকত যদিও তখন অভিযোগ করেছিলেন, কেউ কেউ দলে গোষ্ঠীকোন্দল তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি। পরে অবশ্য কাইজ়ার ভোল বদলে শওকতকে ‘প্রধান সেনাপতি’ আখ্যা দেন। শওকতও জানিয়ে দেন, কথা বলতে গিয়ে ‘এদিক-ওদিক’ হয়ে গিয়েছিল ‘কাইজ়ার ভাইয়ের’। এ বার বিধানসভা ভোটের আগে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল শওকত এবং কাইজ়ারের মধ্যের সেই ‘দ্বন্দ্ব’। তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে সোজা থানার দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল নেতা।