পাকিস্তানের করাচিতে ফের বিস্ফোরণ। রমজানের রোজা শুরুর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে সেহরি চলাকালীন একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, গ্যাস লিক করার কারণে এই দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাড়িটির একাংশ ধসে পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে নয় শিশু-সহ অন্তত ১৬ জনের। আহতের সংখ্যা অন্তত ১৪। তাঁদের মধ্যেও অনেক শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাস শুরু হয়েছে। রোজা শুরুর আগে ভোরে সেহরির খাওয়াদাওয়া করছিলেন সকলে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানায়, ভোর ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ করাচির ওল্ড সোলজ়ার বাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। পুলিশ আধিকারিক জামশেদ আশের জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে গ্যাস লিক করার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য সম্ভাবনাগুলিও খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে ১৬টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, আর কোনও দেহ আছে কি না, দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি।
আরও পড়ুন:
করাচি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর। জ্বালানির অভাবে সেখানে বহু পরিবার তরল পেট্রলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করে। বিশেষত, দরিদ্র পরিবারগুলিতে এই ধরনের সিলিন্ডার ব্যবহারের চল বেশি। তা থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জখম অবস্থায় ১৪ জনের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সূত্রে খবর, যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি অনেক পুরনো এবং জীর্ণ বহুতল। বাড়ির একতলায় রাখা কোনও সিলিন্ডার বিস্ফারিত হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছে দু’বছরের শিশুও। অধিকাংশেরই বয়স ১৭ বছরের নীচে। এমনকি, আহতদের মধ্যেও সাত জন নাবালক রয়েছে।
গত মাসে করাচিতে আরও এক বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল। সদর এলাকার শপিং মলে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছিল ৭৯ জনের। তার এক মাসের মাথায় রমজান মাস শুরুর দিনেই ফের দুর্ঘটনা ঘটল পাক শহরে।