E-Paper

বিস্ফোরণে জখম তিন জনের অবস্থা সঙ্কটজনক, বেপাত্তা ঠিকাদার

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র জেরে সুন্দরবন লাগোয়া ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার বহু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাস্তা তৈরির জন্য মজুত করা লাইট ডিজ়েল অয়েল (এলডিও) ভর্তি ড্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম চার শিশুর মধ্যে তিন জনের অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। জখম সামিউল মোল্লার বাবা মইনুদ্দিন মোল্লা এ নিয়ে ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। ভাঙড়ের খড়গাছি গ্রামে ওই ঘটনার পর থেকে ঠিকাদার পলাতক। তার খোঁজ চলছে বলে জানান এক তদন্তকারী অফিসার। বুধবার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক দল।

মঙ্গলবার ঘটনার পরে এলাকায় গিয়েছিলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকাত মোল্লা। তিনি বুধবার বলেন, ‘‘ওই শিশুদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। পরিবারের পাশে আছি। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। আইন আইনের পথে চলবে।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র জেরে সুন্দরবন লাগোয়া ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার বহু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পিচ রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হয়। ক্যানিং ২ ব্লকের একটি রাস্তার টেন্ডার পান নিউ আলিপুরের বাসিন্দা, ঠিকাদার শম্ভু রায়। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

কয়েক দিন আগে কাজ শুরু হয়। রাস্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পিচের ড্রাম, লাইট ডিজ়েল অয়েল-সহ নানা রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল খড়গাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের মাঠে। স্থানীয়দের দাবি, স্কুলের মাঠের পাশেই খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল প্রায় ২০০ লিটার এলডিও ভর্তি একটি ড্রাম। মঙ্গলবার কয়েক জন শিশু সেখানে খেলছিল। হঠাৎই ঘটে বিস্ফোরণ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজ মোল্লা বলেন, “কান ফাটানো আওয়াজে ছুটে যাই। দেখি একটি শিশু আগুনে পুড়ে ছটফট করছে। আমরা তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে শিশুদের হাসপাতালে পাঠাই।” ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকে কেন আরও সতর্কতা নেওয়া হল না, সে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মানুষ। ভাঙড় ১ ব্লকের বিডিও প্রিয়াঙ্কা বালা বলেন, ‘‘ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’’

মঙ্গলবার ভাঙড়ের খড়গাছি গ্রামের ওই ঘটনায় আট বছরের সাদিকুল মোল্লার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা। সে এম আর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি। সেখানেই ভর্তি তার দুই বন্ধু সামিউল মোল্লা ও রায়হান মোল্লা। আর এক শিশু রিয়াজ হাসান মোল্লাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাদিকুলের বাবা জিয়াউল মোল্লা বলেন, “ডাক্তারবাবুরা বলেছেন, তিন দিন না গেলে কিছু বলা যাবে না। ওর শরীরে কোথাও চামড়া অবশিষ্ট নেই।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Canning

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy