Advertisement
E-Paper

আড়িয়াদহের ‘মারকুটে’ সেই ক্লাবে জয়ন্তকে নিয়ে গেল ব্যারাকপুরের পুলিশ, হল ঘটনার পুনর্নির্মাণ

জয়ন্ত সিংহকে নিয়ে আড়়িয়াদহের তালতলার ক্লাবে গেলেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতেই জয়ন্তকে ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪ ১৩:০৯
তালতলার ক্লাবে জয়ন্ত সিংহকে নিয়ে গেল পুলিশ।

তালতলার ক্লাবে জয়ন্ত সিংহকে নিয়ে গেল পুলিশ। —ফাইল চিত্র

জয়ন্ত সিংহকে নিয়ে আড়়িয়াদহের তালতলার ক্লাবে গেলেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতেই জয়ন্তকে ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সঙ্গে আনা হয়েছিল তাঁর দুই শাগরেদকেও।

তালতলার ক্লাব জয়ন্তের ‘আদালত’ বলেই পরিচিত এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেখানেই জয়ন্ত ও তাঁর শাগরেদরা আদালতের মতো করে ‘বিচার’ চালাতেন। অভিযোগ, অনেককেই ক্লাবে ডেকে এনে মারধর করেছিলেন তাঁরা। যুবক-যুবতীকে মারধরের যে ভিডিয়ো (সেটির সত্যতা আনন্দবাজার অনলাইন যাচাই করেনি) প্রকাশ্যে এসেছিল, সেটিও সেই তালতলা ক্লাবেরই। পুলিশ সূত্রে খবর, ক্লাবে কী ভাবে এই কাজ চালাতেন জয়ন্তেরা, তা বোঝার জন্যই সেখানে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ক্লাবের কোন ঘরে কে বসতেন, মারধরে ব্যবহৃত হাতিয়ারগুলি কোথায় রাখা হত— তা-ই দেখতে গিয়েছিলেন পুলিশ আধিকারিকেরা।

আড়িয়াদহে ছেলে ও মাকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর অভিযোগে জয়ন্ত ও তাঁর শাগরেদদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁরা হেফাজতে ছিলেন। তার মধ্যে গত সোমবার রাতে যুবক-যুবতীকে মারধরের সেই ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসে। বুধবার জয়ন্তকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁদের ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর শুক্রবার জয়ন্ত ও তাঁর শাগরেদদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে তালতলার ক্লাবে গেল পুলিশ।

জয়ন্তের ‘আদালত’ তালতলার ক্লাবে এক জনকে চ্যাংদোলা করে লাঠিপেটা করার ভিডিয়ো (আনন্দবাজার অনলাইন সেটির সত্যতা যাচাই করেনি) সোমবার রাতে প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল হয় রাজ্য-রাজনীতি। প্রকাশ্যে আসে জয়ন্তের ‘তৃণমূল-যোগ’। ভিডিয়ো নিয়ে শোরগোল হতেই গ্রেফতার করা হয় জয়ন্ত-সহ ছ’জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালে আড়িয়াদহের বাসিন্দা রাহুল গুপ্তের বাড়িতে চুরি হয়। তাতে জড়িত সন্দেহে এক যুবক-যুবতীকে তালতলা ক্লাবে নিয়ে এসেছিলেন রাহুলই। জয়ন্তের শাগরেদরা ওই যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ‘বিচার’ শুরু করেছিলেন। প্রশ্ন ওঠে, কাউকে চোর সন্দেহ হলে, তা খতিয়ে দেখার জন্য তো পুলিশ রয়েছে, তা হলে ক্লাবে কেন আনা হয়েছিল? এরই সঙ্গে বিরোধীদের প্রশ্ন, ‘শাসকদলের ঘনিষ্ঠ’ হওয়ার কারণেই কি এত দিন জয়ন্তের ‘মাতব্বরি’র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেনি পুলিশ? এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সরাসরি আড়িয়াদহ বা জয়ন্ত সিংহের নাম উচ্চারণ না করে তাঁর বক্তব্য, উপনির্বাচনে তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই পুরনো ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আড়িয়াদহের ঘটনা নিয়ে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তিনিও জানান, ঘটনাটি তিন বছর আগের। এক মহিলাকে মারধর করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা-ও খারিজ করেন আলাপন। জানিয়ে দেন, নিগৃহীত ব্যক্তি পুরুষই। এ ক্ষেত্রেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নিগৃহীত ব্যক্তি পুরুষ হোক বা মহিলা, নিগ্রহের ঘটনাই নিন্দনীয়। এরই সঙ্গে এক জনের লিঙ্গপরিচয় বিকৃত করে ‘অপপ্রচারের’ও নিন্দা করেছেন আলাপন। রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন শৃঙ্খলা) মনোজ বর্মাও জানিয়েছেন, বাকি অভিযুক্তদেরও অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy