E-Paper

জোর প্রস্তুতি শুরু মহাকরণে

পূর্তকর্তা এবং ইঞ্জিনিয়ারদের দল পরিদর্শন করেছেন মূল এলাকাগুলি। দ্বিতীয় তলে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব বা অন্যান্যদের ঘরগুলির (আগে যে যেখানে বসতেন) প্রাথমিক মেরামতি হয়েছে। এখন বাকি অন্য কাজকর্ম।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৭:৫৬
মহাকরণ।

মহাকরণ। — ফাইল চিত্র।

ছেড়ে যাওয়ার আগে কথা ছিল, মাস পাঁচেকের মধ্যে মহাকরণে ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবের আলো দেখেনি। বরং দিনে দিনে আড়েবহরে বেড়েছিল গঙ্গার ওপারের নবান্ন ভবনের গুরুত্ব। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ফের গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে মহাকরণের। ভোট-প্রচারে বিজেপি জানিয়েছিল, ভোটে জিতলে মহাকরণই হবে রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবন। সোমবার ফলাফল ঘোষণার পরেই মঙ্গলবার মহাকরণ মেরামতের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর। মহাকরণের ভিতরের চত্বরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ বিজেপি নেতৃত্বের ছবি দেওয়া সুবিশাল ফ্লেক্স জানান দিচ্ছে সেই তৎপরতাকেই।

প্রশাসনিক তরফে মুখ খুলতে চাননি কেউই। তবে এ দিন সেখানে দেখা গেল, সেই প্রস্তুতি চলছে পূর্ণ মাত্রায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, পূর্ত দফতরের একটি শাখা (যাদের অধীনে মহাকরণ) ভবনের একটি ব্লকে স্থানান্তরিত হয়েছে বিদ্যুৎ ও নির্মাণের কাজের পরিকল্পনা এবং তা কার্যকর করার জন্য। মহাকরণের দ্বিতীয় তলে একটা সময় সার দিয়ে বসতেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, অর্থসচিব-সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা। তৃতীয় তলেও সার দেওয়া ঘরের এক একটিতে ছিল এক এক জন মন্ত্রীর দফতর। গোটা মহাকরণকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। কারণ, যে মেরামতের উদ্দেশ্য নিয়ে তৃণমূল সরকারের প্রথম পাঁচ বছরেই মহাকরণের বিভিন্ন অংশ ভাঙা হয়েছিল, তাতে সংস্কার হয়নি বললেই চলে। প্রস্তাবিত সৌন্দর্যায়নের কাজও বিশ বাঁও জলে। তবে মহাকরণের ওই সব অংশের কাজে দীর্ঘ সময় লাগলেও, মূল অংশের কাজ তুলনায় দ্রুত সেরে ফেলা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই।

সূত্রের দাবি, এ দিনই পূর্তকর্তা এবং ইঞ্জিনিয়ারদের দল পরিদর্শন করেছেন মূল এলাকাগুলি। দ্বিতীয় তলে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব বা অন্যান্যদের ঘরগুলির (আগে যে যেখানে বসতেন) প্রাথমিক মেরামতি হয়েছে। এখন বাকি অন্য কাজকর্ম। বিদ্যুতের লাইন টানার পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতিমধ্যে। মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে, সেখানে জোর দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার উপরেও।

মেরামতির তৎপরতায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি হয়েছেন সেখানে একাধিক ক্যান্টিন এবং খাবারের স্টলের মালিকেরা। কারণ, মহাকরণ ছেড়ে তৃণমূল সরকার নবান্নে পাড়ি দেওয়ায় সেই সব ক্যান্টিন এবং স্টলে কর্মরত শতাধিক মানুষ বিপদে পড়েন। অনেককে খুঁজে নিতে হয় বিকল্প কাজ। একাংশ সেখানে থেকে গেলেও বিক্রির বহরে ধস নামে ব্যাপক ভাবে। কারণ, বেশির ভাগ দফতর মহাকরণ ছেড়ে দেওয়ায় লোকসংখ্যা এক ধাক্কায় কমে যায় অনেকটা। শুধু স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ দফতরের কয়েকটি শাখা সেখানে থাকায় হাতেগোনা কিছু মানুষের যাতায়াত এত দিন ছিল মহাকরণে। এক ক্যান্টিন মালিকের কথায়, “আগে দৈনিক বিক্রি হত ১৫ হাজার টাকার ধারেকাছে। এখন বিক্রি দৈনিক কখনও পাঁচ হাজার, কখনও বা হয় তারও কম। ফের মহাকরণ বেঁচে উঠলে ব্যবসা বাড়বে।” তবে এখন অনেকেরই কৌতূহল, মহাকরণের নাম বদল হয় কি না, তা নিয়ে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Writers’ Building BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy