Advertisement
E-Paper

প্রেসিডেন্সিতে ভর্তির পরীক্ষা জেলায় বসেই

কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে স্থানাভাবের দরুন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। জেলাতেও প্রবেশিকার ব্যবস্থা করে আপাতত সেই সমস্যার মোকাবিলা করা হচ্ছে। এ বার বিভিন্ন জেলা সদরের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বসেই ওই পরীক্ষা দেওয়া যাবে। তবে কোনও বিভাগ বা কেন্দ্রীয় ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ওই পরীক্ষা নিচ্ছে না। ১২ জুলাই প্রবেশিকা নেবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০১৫ ০৪:১০

কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে স্থানাভাবের দরুন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। জেলাতেও প্রবেশিকার ব্যবস্থা করে আপাতত সেই সমস্যার মোকাবিলা করা হচ্ছে। এ বার বিভিন্ন জেলা সদরের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বসেই ওই পরীক্ষা দেওয়া যাবে। তবে কোনও বিভাগ বা কেন্দ্রীয় ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ওই পরীক্ষা নিচ্ছে না। ১২ জুলাই প্রবেশিকা নেবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।

মঙ্গলবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড ও প্রেসিডেন্সি-কর্তৃপক্ষ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করা যাবে ১৬ জুন থেকে। পরীক্ষা নেওয়া হবে অনলাইন ও অফলাইন (লিখিত) পদ্ধতিতে। সব জেলাতেই পরীক্ষা কেন্দ্র রাখা হবে। তবে কোন জেলায় ক’টি পরীক্ষা কেন্দ্র করা হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট জেলার আবেদনকারীর সংখ্যার উপরে। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে প্রেসিডেন্সির উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া জানান, এ বার মোট আসন-সংখ্যা ৫৯৩। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।

গত বছর প্রেসিডেন্সিতে ভর্তির পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ চার-পাঁচ দিন ধরে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেও সব প্রার্থীকে সুষ্ঠু ভাবে বসতে দিতে পারেননি। তার উপরে ওই পরীক্ষাকে ঘিরে কলেজ স্ট্রিটে যানবাহনের জট পাকিয়ে যেত বলে জানিয়েছিল পুলিশ। এ বার পরিস্থিতিটা বদলাতে চলেছে।

সেই পরিস্থিতি বদল অবশ্য খুব সহজ হয়নি। মূলত স্থান সঙ্কুলান হচ্ছিল না বলেই প্রেসিডেন্সি-কর্তৃপক্ষ এ বার প্রবেশিকার পরিবর্তে অন্য কোনও পদ্ধতিতে ছাত্র ভর্তির ব্যবস্থা করতে চাইছিলেন। কিন্তু পড়ুয়ারা বেঁকে বসেন। তাঁরা দাবি তোলেন, প্রতিষ্ঠানের মান বজায় রাখার জন্য দীর্ঘদিনের চালু ব্যবস্থা অর্থাৎ পরীক্ষা নিয়েই ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ তখন জানান, বিভিন্ন বিভাগ নিজেরা প্রবেশিকার বন্দোবস্ত করতেই পারে। কর্তৃপক্ষের তরফে সহযোগিতা করা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ভাবে ভর্তি-পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ছাত্রছাত্রীরা এই বন্দোবস্তও মানতে চাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ভাবেই প্রবেশিকা পরীক্ষার দাবিতে ধর্না-আন্দোলনে নামেন তাঁরা। কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত জানান, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড বা অন্য কোনও যোগ্য সংস্থা দায়িত্ব নিতে রাজি হলে প্রবেশিকা পরীক্ষা হতে পারে।

জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড ফি-বছর রাজ্য জুড়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেয়। বস্তুত, প্রেসিডেন্সির প্রবেশিকা নেওয়ার জন্য গত বছরই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জয়েন্ট বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সে-বার জয়েন্ট বোর্ড সাড়া দেয়নি। এ বার ওই বোর্ড যাতে ভর্তি-পরীক্ষার ভার নেয়, তার ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়ে প্রেসিডেন্সির কিছু প্রাক্তনী শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে দরবার করেন। স্মারকলিপি পেশ করেন। এই বিষয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন প্রাক্তনীদের।

জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ভাস্কর গুপ্ত এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘বোর্ডকে প্রেসিডেন্সির প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা শিক্ষামন্ত্রী এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কৃতজ্ঞ।’’ উপাচার্য অনুরাধাদেবীও জানান, ভর্তি-পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের সুনাম আছে। তারা প্রবেশিকার ভার নেওয়ায় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপাচার্যও।

সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, অফলাইন বা লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি এ বার অনলাইনেও ভর্তি-পরীক্ষা হবে। তবে অনলাইনে কী কী বিষয়ের পরীক্ষা হবে এবং কোন কোন পরীক্ষা হবে অফলাইনে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপরেই। যেমন অনলাইনে পদার্থবিদ্যার পরীক্ষা হলেও বিভাগের প্রধানেরা বাংলার পরীক্ষা অফলাইনে করাতেই আগ্রহী। অফলাইন মানে লিখিত পরীক্ষা। জেলায় বসে প্রবেশিকা দেওয়া গেলেও তাতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য অবশ্য আসতে হবে কলকাতায়।

Presidency JEE Entrance Test Online exam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy