বাংলা নববর্ষে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে এসেছে ভ্রাতৃত্বের কথা। ভারতীয় সভ্যতায় পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির অবদানের প্রসঙ্গ জায়গা পেয়েছে। সকালে সমাজমাধ্যমে প্রথমে শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করেন মোদী। পরে পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য একটি খোলা চিঠি লেখেন। তাঁর পোস্টে রাজনৈতিক কোনও বার্তা না-থাকলেও চিঠির ছত্রে ছত্রে রয়েছে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ। রয়েছে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলির কথা। একই সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বানও করেছেন মোদী।
বাংলা এবং ইংরেজি দু’ভাষায় নববর্ষের বার্তা দেন মোদী। প্রথমেই পয়লা বৈশাখের বিশেষ দিনে সকলকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। নতুন বছরে সকলের কামনা পূরণের প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, ‘আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সদা বিরাজমান থাকুক।’ সকলের সুস্বাস্থ্য এবং সুখ কামনা করেন মোদী। পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, ‘ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তোলা পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদ্যাপনের’ উপলক্ষ নববর্ষ। মোদী তাঁর পোস্টে যে ছবি ব্যবহার করেছেন, তা জুড়ে রয়েছে এ রাজ্য এবং বাঙালিদের নববর্ষের ছোঁয়ার বিষয়টি।
পরে খোলা চিঠি লেখেন মোদী। সেই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গবাসী অপশাসন, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতির শিকার। এই সব বিষয় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান এবং পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির উপর চরম আঘাত হেনেছে।’’ মোদী জানান, পশ্চিমবঙ্গবাসীর ‘দুঃখ-বেদনা’ দেখে তিনি ‘ভারাক্রান্ত’। তাঁর অভিযোগ, তৃণমল সরকার রাজ্যে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করেছে। মোদীর আশ্বাস, বিজেপি সরকার গড়লে যুবসমাজের কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মোদীর আহ্বান, গণতন্ত্রের উৎসবে ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিন!
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছাবার্তাতেও ছিল রাজনীতির ছোঁয়া। সেখানে যেমন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা বলেছেন মমতা, তেমনই গণতন্ত্রের উৎসবে রাজ্যবাসীকে শামিল হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়েও আক্রমণ শানিয়েছেন। কটাক্ষ করেছেন বিজেপি-কেও।