Advertisement
E-Paper

পাঁচ টাকায় ভরপেট, খুশি রোগীর পরিজন

আয়োজকরা জানান, রোগীর পরিজনদের পাশে দাঁড়াতে নিজেরা চাঁদা তুলে সপ্তাহে এক দিন সস্তায় পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করার সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ব পরিকল্পনা মতো শনিবার দুপুরে ক্যাটারার দিয়ে রান্না করিয়ে সেই খাবার নিয়ে হাসপাতাল পৌঁছন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৮ ০৪:০০
ফাইল চিত্র

ফাইল চিত্র

পাঁচ টাকাতেই মিলল শালপাতা ভর্তি ভাত-ডাল আর সব্জি। একেবারে ভরপেট। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে তা খেলেন রোগীর আত্মীয়, পরিজনেরা। প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন উদ্যোক্তাদের। শনিবার রামপুরহাট হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখা গেল। সৌজন্যে রামপুরহাটের ‘তরুণের আহ্বান’ ক্লাবের সদস্যরা।

এই ক্লাবের সদস্যদের কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কেউবা বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত। রয়েছেন স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারাও। তাঁরা সকলেই রামপুরহাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই ক্লাবের সদস্য। কিছু দিন আগে এই সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ‘বীরভূম ফুডজা ক্লাব’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করেন। উদ্যোক্তারা জানান, সাধারণ গরিব মানুষদের পাশে দাঁড়াতেই এই পদক্ষেপ। শনিবার রামপুরহাট হাসপাতাল চত্বরে তাঁরা পাঁচ টাকার বিনিময়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করলেন রোগীর পরিজদের মধ্যে। তাতে ভাল সাড়া উচ্ছ্বসিত আয়োজকেরা আগামী দিনে এই পরিষেবাকে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প নিয়েছেন।

কেন এমন উদ্যোগ? ক্লাবের তরফে অভিজিৎ সাহা, কৃষ্ণ চৌধুরী, শুভম প্রসাদ, অরিজিৎ সাহারা বলেন, ‘‘হাসপাতালে এসে দেখেছি রোগীর পরিজনেরা অনেক পয়সা খরচ করে তবে খেতে পান। তাই আলোচনা করে ঠিক করেছিলাম ওঁদের পাশে দাঁড়াব।’’ সেই ভাবনা থেকে এমন উদ্যোগ। আয়োজকরা জানান, রোগীর পরিজনদের পাশে দাঁড়াতে নিজেরা চাঁদা তুলে সপ্তাহে এক দিন সস্তায় পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করার সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ব পরিকল্পনা মতো শনিবার দুপুরে ক্যাটারার দিয়ে রান্না করিয়ে সেই খাবার নিয়ে হাসপাতাল পৌঁছন। সঙ্গে ছিল হাত ধোওয়ার জল এবং শালপাতার থালা। পরিবেশনের সুবিধার জন্য নিয়ে আসা হয় পাঁচটি টেবিলও। সেই টেবিলের উপরে একে একে সাজিয়ে রাখা হয় মিহি চালের ভাত, পায়েস, মুগের ডাল, সোয়াবিন, আলুর তরকারি আর আমড়ার চাটনি।

হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা গেল, দুপুর খাবারের স্টলের সামনে লম্বা লাইন। আট থেকে আশি —সকলেই খাবার কিনছেন। ৫ টাকায় গরম ভাত, ডাল, সব্জি আর চাটনির সঙ্গে পায়েস পেয়ে সকলের মুখেই তৃপ্তির হাসি। নলহাটি থানার কয়তা গ্রামের প্রতিবন্ধী বীরেন্দ্রকুমার দাসের কথায়, ‘‘হাসপাতালে প্রতিবন্ধী শংসাপত্র তৈরির কাজে এসেছিলাম। কাজ মিটতে মিটতে দুপুর হয়ে গিয়েছিল। মাত্র পাঁচ টাকায় এতো ভাল খাবার খেলাম ভুলতে পারব না।’’ একই রকম খুশি মুরারইয়ের পাইকর গ্রামের যুবক কাউসার শেখ, মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম ব্লকের নোনাডাঙা গ্রামের যুবক আনসারুল শেখরা। তাঁরা বলেন, ‘‘দুপুরে হোটেলের খাবার খেতে যাচ্ছিলাম। পাঁচ টাকায় খাবার দেওয়া হচ্ছে শুনে চলে এলাম। খেয়ে খুবই তৃপ্তি পেয়েছি।’’ মুরারই থানার আম্বুয়া গ্রামের বাতাসী বেগম, মুর্শিদাবাদের মোড়গ্রাম এলাকার বিলকিশ বেগমদের কথায়, ‘‘হোটেলে তিরিশ চল্লিশ টাকার নীচে খাবার পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে তাই খেতে হয়।’’

উদ্যোক্তারা জানান, বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হলে অনেকেই খেতে চান না। তাই সকলের মন রাখতেই পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব বলে ব্যবহার করা হয়েছে শালপাতা। সস্তায় খাবার পেয়ে অনেকেই উদ্যোক্তাদের কাছে এই পরিষেবা প্রতিদিন চালু রাখার আবেদন জানান। প্রয়োজনে অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।

আয়োজকেররা জানান, এ দিন দু’শো জনের খাবারের বন্দোবস্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু, তার চেয়েও অনেক বেশি লোক দুপুরের ‘মিল’ খেয়েছেন। আর খরচ? ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে, হাজার ছ’য়েক টাকা খরচ হয়েছে। তবে রাধুনি তাঁর পারিশ্রমিক নেননি।

Rampurhat Hospital 5 rupee meal Volunteers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy