পঁচাশি বছরের টুলু দাস বৈরাগ্য় মেয়ের বাড়ি মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে একাই বেরিয়েছিলেন নদিয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার দেবগ্রাম এলাকায় নিজের বাড়ি যাবেন বলে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছননি। তিনি যেন গত দেড় মাস একরকম উধাও হয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের কাছ থেকে। সেই বৃদ্ধার খোঁজ দিলেন বীরভূমের আর একটি পরিবার ও এক সিভিক কর্মী। বুধবার পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটল ওই অশীতিপরের।
ওই বৃদ্ধার তিন মেয়ে রয়েছেন। তিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যথাক্রমে তিন মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। বহরমপুরে বড় মেয়ের বাড়ি থেকেই দেড় মাস আগে বেরিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এর আগেও তিনি একবার ছ’মাসের জন্য আচমকা একটি আশ্রমে চলে গিয়েছিলেন। সে কারণে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, এবারও হয়তো সেখানেই গিয়েছেন। তবুও তাঁরা খোঁজ শুরু করেন কিন্তু খুঁজে পাননি বৃদ্ধাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ দিন আগে ওই বৃদ্ধা নলহাটি ২ ব্লকের আকালিপুরে রাধাকান্ত মণ্ডলের বাড়ির পাশে একটি ক্লাবের সামনে বসেছিলেন। তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে কিছু বলতে পারেননি। পরে নিজের নাম-ঠিকানা জানান। এরপরে রাধাকান্ত লোহাপুর ফাঁড়িতে বিষয়টি জানান ও তিনি সমাজ মাধ্যমে বৃদ্ধার ছবি-সহ পোস্ট করেন। এর পাশাপাশি গ্রামেরই সিভিক কর্মী সুশোভন মণ্ডলকে বিষয়টি জানানো হয়। সুশোভনের এর আগে নদিয়ার দেবগ্রামে এক সিভিক কর্মীর সঙ্গে পরিচয় থাকায় তিনি বৃদ্ধার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাধাকান্তের অনুমান, বহরমপুর থেকে বেরিয়ে আরও কিছু জায়গায় ঘুরে তিনি কৃষ্ণনগর-তারাপীঠ রুটের বাসে চেপে হয়তো আকালিপুরে চলে এসেছিলেন।
আকালিপুরের রাধাকান্ত মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামে স্পেশাল এডুকেটর হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, “এই ১২ দিন ধরে আমার ভাই-কাকা সকলে মিলে ওঁর খাওয়া ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি পাড়ার সিভিক কর্মীকে বিষয়টি জানালে উনি বৃদ্ধার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বৃদ্ধাকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা খুশি।”
সুশোভনের কথায়, “আমি রাধাকান্ত মণ্ডলের কাছে খবর পেয়ে নদিয়ায় যোগাযোগ করি। ওখানে পরিচিত সিভিককর্মীর সাহায্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর আগেও আমরা এ রকম কাজ করেছি।”
বৃদ্ধার নাতি বাপি দাস বৈরাগ্য বলেন, “সাত বছর আগে দাদুর মৃত্যুর পরে থেকেই দিদা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। বহুদিন ধরে দিদাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎই মঙ্গলবার খোঁজ আসে দিদা বীরভূমে রয়েছেন। সেইমতো তড়িঘড়ি আমরা এখানে চলে আসি। ওঁরা যেভাবে আমার দিদাকে আগলে রেখেছিলেন, সুশোভন যে ভাবে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
লোহাপুর ফাঁড়ির এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “শুনেছি বৃদ্ধাকে বাড়ির লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভাল উদ্যোগ। এমন কাজ সিভিক কর্মীরা প্রায়ই করে থাকেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)